সাজার আসামি লন্ডন থেকে নাটাই ঘোরায় : প্রধানমন্ত্রী|112615|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সাজার আসামি লন্ডন থেকে নাটাই ঘোরায় : প্রধানমন্ত্রী
পাভেল হায়দার চৌধুরী ও ফখরুল ইসলাম

সাজার আসামি লন্ডন থেকে নাটাই ঘোরায় : প্রধানমন্ত্রী

গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষের প্রার্থী হওয়া ‘অত্যন্ত পরিতাপের’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

জনসভার মঞ্চে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯ আসনে মহাজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে নৌকায় ভোট চান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নৌকা মানেই উন্নয়ন; ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুটপাট, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে দেশকে ধ্বংস করবে। তাই নির্বাচনে আমরা নৌকা মার্কায় ভোট  চাই। কারণ নৌকা মানে উন্নয়ন।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের নমিনেশন দিয়েছে; যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমরা শাস্তি দিয়েছি। তাদেরকে নিয়ে নির্বাচনে অংশীদার হয়েছে। এরা কী রাজনীতি করবে? এরা সকল অর্জন নস্যাৎ করবে। কারণ এরা যুদ্ধাপরাধীদের নমিনেশন দিয়েছে; এরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

ওই সময় হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়; ধানের শীষ নিয়ে যিনি দাঁড়িয়েছেন, (তার) পিতার হত্যাকারী ধানের শীষ। যেখানে বিএনপি কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করেছে, সেই কিবরিয়া সাহেবের ছেলে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে ইলেকশন করছে। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।’ ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগের জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তার ছেলে রেজা কিবরিয়া গত ১৭ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থিতার কথা জানান।

জনসভায় বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ওই লন্ডনে বসে নাটাই ঘুরায়, যে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আল্লাহ যদি দিন দেয়, ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ধরে এনে রায় কার্যকর করব। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলতে দেব না।’

বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে তারা (বিএনপি) কী করেছে? একেক সিটে তারা চার-পাঁচজন করে নমিনেশন দিয়েছে। একেকটা সিট অকশনে (নিলাম) দিয়েছে। যে যত বেশি টাকা দেবে, সে নমিনেশন পাবে। এই অকশন দিতে গিয়ে তাদের ছ্যাড়া-বেড়া অবস্থা।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরীর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াকে স্বাগত জানিয়ে দলটির সভাপতি বলেন, ‘আমি তাকে স্বাগত জানাই। তিনি নিজে বলেছেন, একেকজনের কাছে টাকা চায়; দিতে পারলে আছে, দিতে না পারলে নমিনেশন নেই। এই হলো তাদের মনোনয়ন, তারা অকশন দিয়েছে। আপনারা বলুন এরা কী রাজনীতি করে?’

বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে গেলে এখন সম্মান পায় বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, সে সম্মান রক্ষা করতে হলে নৌকায় ভোট দিয়ে মহাজোটের প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সারা বিশ্বে উচ্চ আসনে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই উচ্চ আসনটা ধরে রাখতে হবে। ওই বিএনপি-জামায়াত জোট বাঙালি জাতির মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছিল। হত্যা, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি-এটাই ছিল তাদের কাজ।’

ওই সময় সারা দেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সিলেটের উন্নয়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কওমি মাদ্রাসা; এই কওমি মাদ্রাসার কোনো সরকারি স্বীকৃতি ছিল না। আমরা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমর্যাদার করে দিয়েছি। আজকে আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমরা যেই সম্মান পেয়েছিলাম বাংলাদেশ স্বাধীন করার পর, সেই সম্মান নষ্ট করা হয় পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে।’

বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) অপকর্মের কারণে ২০০৭ সালে ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) ঘোষণা হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আজকে বলে বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল দিন-রাত পরিশ্রম করে এই মর্যাদা আমরা আপনাদের জন্য বয়ে এনেছি। এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে।’

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এতে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিলেট-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।