ভিসা না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা|112622|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
পর্যবেক্ষক দল
ভিসা না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা
বিশেষ প্রতিনিধি

ভিসা না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের ছাড়পত্র ও ভিসা না পেয়ে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (অ্যানফ্রেল) নামে একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সফর বাতিল হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে স্থানীয় ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র রোবার্ট প্যালাডিনো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকায় হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন আদৌ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) তত্ত্বাবধানে মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এই পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি জরুরি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ যথাসময়ে ছাড়পত্র ও ভিসা না দেওয়ায় ‘অ্যানফ্রেল’ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল না যাওয়ার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে স্থানীয় এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) সদস্যের পরিচয়পত্র দ্রুত ইস্যু করাটা জরুরি, যাতে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন। এই গ্রুপের কিছু সদস্যের ব্যয়ভার ইউএসএআইডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বহন করছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নিজ নিজ মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশের সুযোগ অবশ্যই থাকতে হয়; সভা-সমাবেশও অবাধ হতে হয়; নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চার কতটা উন্নতি হচ্ছে তা স্বাধীন গণমাধ্যমের খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য জানার অধিকার থাকতে হবে এবং সবারই হয়রানি-ধমকানি এবং ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করা ও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের নাগরিকরা নির্বিঘেœ এবং দ্বিধাহীনচিত্তে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ১১৮টি দেশীয় সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা আবেদন করেছে। এছাড়া অ্যানফ্রেল থেকে ৩২ জন এবং নেপালের বেসরকারি সংস্থা ভিপেন্দ্র ইনিশিয়েটিভ কেন্দ্র থেকে তিনজনের পর্যবেক্ষণের আবেদন এসেছে।

বাংলাদেশে ৫২টি কূটনৈতিক মিশন থেকে শখানেক বিদেশি এবং স্থানীয় কর্মীদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আবেদন পেয়েছে ইসি। বিদেশি সংস্থার স্থানীয় কর্মীদের ‘স্থানীয় পর্যবেক্ষক’ হিসেবেই কার্ড দেওয়া হবে। চারটি বিদেশি সংস্থা ৩২ জনকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছে। বিদেশি সাংবাদিকদের আবেদন এসেছে আটটি।

অন্যদিকে ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (এফইএমবিওএসএ), এ-ওয়েব, অ্যাসোসিয়েশন অব আফ্রিকান ইলেকশন অথরিটিসকে (এএইএ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারত, ভুটান এবং মালদ্বীপ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।