আইনি লড়াইয়ে নামবেন স্বয়ং ড. কামাল|112632|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আইনি লড়াইয়ে নামবেন স্বয়ং ড. কামাল
রেজাউল করিম লাবলু

আইনি লড়াইয়ে নামবেন স্বয়ং ড. কামাল

নির্বাচন কমিশনে বৈধ হওয়ার পরও আদালতের আদেশে ধানের শীষের যেসব প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো ফেরত পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত সরকারবিরোধী প্রধান জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রয়োজনে নিজেই আইনি লড়াইয়ে নামার কথা বলেছেন জোটের আহ্বায়ক গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা এখন প্রার্থিতা ফেরত পেতে আইনি লড়াই করছে। তাতে কাজ না হলে প্রয়োজনে তিনি নিজেই আদালতে দাঁড়াবেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৩টি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। গত ২০ ডিসেম্বরও ১১ জনের প্রার্থিতা স্থগিত করেছে আদালত। ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ আইনকে ভিত্তি করে আদালতের মাধ্যমে একে একে তাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের আগেই ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোটের মাঠ ছাড়তে হচ্ছে। এর সুবিধা নিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

এর মধ্যে জামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলে তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিবসহ কয়েকজনের একটি রিট আবেদন শুনে গত মঙ্গলবার একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে। সে বিষয়ে আগামীকাল সোমবার ইসির সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে জানান, যে আটটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই, সেগুলোতে স্বতন্ত্র কিংবা অন্য কোনো দলের প্রার্থীকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা। এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কী সিদ্ধান্ত নেয় তা পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতের নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়ে ইসি কী সিদ্ধান্ত নেয় তাও পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। ইসি তাদের প্রার্থিতা বাতিল করলেও তারা আইনি লড়াইয়ে যাবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিচার বিভাগ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপির প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করছে। নির্বাচন কমিশন কারো প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে প্রতীক বরাদ্দের পর আদালত তা বাতিল করতে পারে নাÑ আদালতের এমন নজির আছে। তাই ইসি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে এবং প্রার্থিতা ফেরত দিতে পারে। তাই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ইসিকে তার ভূমিকা রাখার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতে একই কারণে একজনকে বৈধ, আরেকজনকে অবৈধ বলা হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পক্ষে একটি উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে তিন বছর আগে পদত্যাগ না করায় তার প্রার্থিতার বাতিল করেছে আদালত। অথচ এখনো জৈন্তাপুর সরকারি ইমরান আহমেদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ড. এনামুল হক সরদারের প্রার্থিতা বাতিল হয়নি।

তবে যাদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতে বহাল রেখেছেন, তারা সেই আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের আদেশের অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

লুনার আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিভিউয়ের জন্য উচ্চ আদালতের আদেশের কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি বলেন, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিএনপি রাজনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে আদালত যেসব আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে তা নিজ ক্ষমতাবলে ইসি কর্র্তৃক ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। না হলে ওইসব আসনে পুনঃ তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয় ইসি কী ব্যবস্থা নেয়।