নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের শঙ্কা|112633|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের শঙ্কা
ইমন রহমান

নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের শঙ্কা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে মানুষের মধ্যে শঙ্কাও তত বাড়ছে। প্রতিদিনই দেশের     কোথাও না কোথাও ঘটছে সহিংসতা; অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্রও। নির্বাচনে রক্তপাত ঠেকাতে বরাবরের মতো এবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। তবে অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা খুবই নগণ্য। 

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ত্র উদ্ধারের চেয়ে বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারে বেশি মনোযোগী পুলিশ। তবে পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে লাইসেন্সধারী বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। 

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় অস্ত্র ব্যবহার করেছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নির্বাচনী প্রচারে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে খোকনসহ পাঁচ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন।  পরদিন নরসিংদীতে বিএনপি প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের প্রচারে হামলা চালিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুরসহ নেতাকর্মীদের গুলি ও কুপিয়ে জখম করা হয়। গত ২০ ডিসেম্বর মহাজোটের প্রার্থী বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর মুন্সীগঞ্জের বাড়িতে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পথসভায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে; এতে আহত হয় কমপক্ষে ২৫ জন।

নির্বাচন ঘিরে অস্ত্রের ব্যবহার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারের চেয়ে মামলা দিয়ে বিরোধী দলকে হয়রানিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশি মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ অস্ত্র চোরাচালানের একটি ট্রানজিট রুট। অবৈধ ক্ষুদ্রাস্ত্রও দেশে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে শক্ত পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনে বড় ধরনের রক্তপাত হতে পারে। ’

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্বাচনে অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা নেই। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিনই অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী গণ্ডগোলে দু-একটি ছাড়া কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।’

পুলিশ জানায়, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায় শুধু ঢাকা শহরেই ১০ থেকে ১২টি সিন্ডিকেট রয়েছে। সারা দেশেও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে রয়েছে অসংখ্য সিন্ডিকেট। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের ভাণ্ডার।  বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সীতাকুণ্ড, বান্দরবান, সাজেক, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, মোংলা, উখিয়া, রামু, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, রাউজান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, হিলি এবং সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসছে। তাছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশেও তৈরি হচ্ছে অস্ত্র।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমগ্র দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।’ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।