সাদাসিধে লেখকের জন্মদিন|112658|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১০:৩৬
সাদাসিধে লেখকের জন্মদিন
মদিনা জাহান রিমি

সাদাসিধে লেখকের জন্মদিন

এক শিক্ষার্থীর তোলা ছবি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ৬৭তম জন্মদিন ২৩ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের তরুণ এবং শিশু-কিশোরদের কাছে খুব প্রিয় একটি ডাক ‘জাফর স্যার’। বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ, মা আয়েশা আখতার খাতুন। ১৯৭১ সালের ৫ মে শহীদ হয়েছিলেন বাবা। বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের অন্যতম পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আর ছোটভাই জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব।

আহসান হাবীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, “পারিবারিকভাবে উৎসব করে ভাইয়ার জন্মদিন পালন করা হয় না। কিন্তু আমরা ভাইয়ার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করি। ভাইবোনরা একসাথে হলে সেটাই একধরনের উৎসবে রূপ নেয়।”

১৯৯৪ সালে প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরে মুহম্মদ জাফর ইকবাল অধ্যাপক হিসেবে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে যোগ দেন। তিনি তার লেখার মাধ্যমে সমাজের কুসংস্কার, ধর্মান্ধতাসহ নানা অসংগতি দূর করে বিজ্ঞানভিত্তিক একটি সমাজ নির্মাণের প্রচেষ্টা শুরু করেন। বাংলাদেশে প্রথম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট বেকবোন নির্মিত হয় তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

২০১০ সালে যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন কল্পবিজ্ঞান লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সর্বদা সোচ্চার তিনি। ২০০৯ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ নামে ছোট আকারের একটি বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন।

নানা ধরনের সামাজিক চাপে বড় হচ্ছে যে শিশু-কিশোররা, তাদের জীবন রঙিন করে তুলেছে জাফর ইকবালের বই। এই প্রজন্মের অনেক শিশু-কিশোররা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক ধারণা লাভ করে তার লেখা পড়েই। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড গড়ে তোলার পেছনে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা তার ‘নিউরনে অনুরণন’ ও ‘নিউরনে আবারও অনুরণন’ বই দুটি গণিতপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

শাবিপ্রবি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষকতা পেশা থেকে গত ৪ অক্টোবর অবসর নিয়েছেন।