মিয়ানমারে দণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক নির্দোষ: যুক্তরাজ্য|112685|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:৫২
মিয়ানমারে দণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক নির্দোষ: যুক্তরাজ্য
অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারে দণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক নির্দোষ: যুক্তরাজ্য

মিয়ানমারে দণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মি হান্ট। শুক্রবার তিনি আরও বলেন, “তাদেরকে যে প্রক্রিয়ায় সাজা দেয়া হয়েছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ প্রকাশ করছি।”

রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে সেপ্টেম্বারের শুরুতে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক মিয়ানমার নাগরিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে ওউকে (২৮)  সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয় দেশটির ইয়াংগুন জেলা আদালত।

রয়টার্স জানায়, তাদের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টস (দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন) ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়। মূলত রাখাইন রাজ্যের একটি গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালানোর সময় গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হন তারা।

সেপ্টেম্বরেই মিয়ানমার নেত্রী অং সান সুচি বলেন, “এ দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয়ার সঙ্গে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ বিষয়টি যুক্ত নয়। সাংবাদিক বলে তাদেরকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, এটা ঠিক না।”

এ দুই সাংবাদিকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেইসঙ্গে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। 

এতে  জার্মি হান্ট বলেন, “আমরা পৃথিবীকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, এ দুই সাংবাদিক নির্দোষ। শুধু তারাই নয় বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক কারাগারে আছেন, অনেকেই হত্যার শিকারও হয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়, এ বছর ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫১ জন সাংবাদিক দায়িত্বপালনে বিশ্বব্যাপী গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত, অন্তত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

হান্ট বলেন, “বড়দিনেও তারা কারাগারে বন্দি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর সংগঠিত নৃশংস গণহত্যার ওপর প্রতিবেদন করতে যাওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

রয়টার্সের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শী মিয়ানমারের এক পুলিশ সদস্যই জানিয়েছিলেন যে, তাদের কাছে যেসব ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে, গ্রেফতারের অল্পসময়ের আগে পুলিশই সেসব তাদেরকে দিয়েছিল। তারা রাখাইনের একটি গ্রামে গণহত্যার অভিযোগের অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন।  

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিষয়টি আমরা অং সান সুচিকে জানিয়েছি।”