প্রতিবেশী দেশে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশের মাটি নয়|112720|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:২২
টাইমস নাউকে শেখ হাসিনা
প্রতিবেশী দেশে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশের মাটি নয়
বিশেষ প্রতিনিধি

প্রতিবেশী দেশে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশের মাটি নয়

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে জঙ্গি হামলার ঘাঁটি হতে দেব না। অন্য দেশে হামলায় মদদ দিলে নিজের দেশও আক্রান্ত হতে পারে।

গত শনিবার গণভবনে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউ-এর সাংবাদিক সঞ্জয় চৌধুরীর কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করাই তার সরকারের অগ্রাধিকার। এ সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা, তিস্তার পানিবণ্টন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে কোনো ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটি না থাকায় বিষয়ে সাংবাদিক সঞ্জয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন,  আমরা চাই না আদেশের মাটিকে ব্যবহার করে অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসী হামলা হোক। সে কারণেই দেশে সন্ত্রাসবাদী কোনো ঘাঁটি আছে কি না, কিংবা অন্য কোনো তৎপরতা চলছে কি না, আমরা সবসময় তা খেয়াল করি। এ রকম কোনো খবর পেলে আমরা খোঁজ রাখি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, কেউ যদি অন্য কোনোও দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতায় মদদ দেয় তাহলে নিজেই একদিন ভোগান্তির শিকার হবে। এ সময় শেখ হাসিনা অস্ত্র চোরাচালানের বিষয় তুলে ধরে বলেন, একসময় বাংলাদেশ অস্ত্র চোরাচালানের নিরাপদ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখন আর হচ্ছে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এটা করতে দিইনি। কারণ আমি যদি আজ এটা করতে দিই, তাহলে আমার দেশের মানুষও একদিন এই ভোগান্তির শিকার হবে। কোনো না কোনোভাবে দেশের কিছু মানুষ ওই তৎপরতায় উৎসাহিত হবে।’

সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে কী কী সংকট মোকাবিলা করেছেন জানতে চাইলে ওই সাংবাদিককে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকগুলোই পাকিস্তানের সৃষ্টি করা। ২০১৬ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি হামলা না হওয়ায় সঞ্জয়ের প্রশংসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দেশ নাই, কোনো সীমানা নাই। তিনি বলেন, তিনি আর তার বোন শেখ রেহানা ছাড়া পরিবারের বাকি সব সদস্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ছয় বছর পরে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেও বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তার সমাবেশস্থলে বোমা পুঁতে রাখা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা বলেন।

২০১৬ সালে পাকিস্তানের সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত একান্তই নিজের। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সব সময়ই বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রত্যেক দেশেরই তাদের নিজ নিজ ভূমিকার পেছনে নিজস্ব কারণ থাকে। তবে আমি স্বীকার করছি, আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করবেন না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক একান্তই তাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যাপার। আমি এর মধ্যে ঢুকতে চাই না, কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সার্কের সাফল্য বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তখনই সাফল্য আসবে যখন একটি দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আমাদের এমন একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে। হস্তক্ষেপ ঘটলে বন্ধুত্ব সম্ভব না।

তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে শেখ হাসিনা আশা ব্যক্ত করেন। আসন্ন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সম্ভাব্য জয়ের পেছনের কারণ হিসেবে শেখ হাসিনা তার সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন। তার দলের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসতে না পারলে উন্নয়নের এই গতি বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বিবাদের বদলে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান করতে চেয়েছেন তিনি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার তাগিদবোধ করেছে বাংলাদেশ। তবে জীবনভর তারা শরণার্থী শিবিরে থাকতে পারে না। রাখাইনে ফেরার ব্যাপারে রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত, তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারত এ ব্যাপারে মধ্যস্থতা করবে। 

এই বিপুল পরিমাণ মানুষের চাপ নেওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় এই সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল- এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের পক্ষে মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া লাগাতে চাইনি। আমরা বরং আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছি।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের চুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখনো প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। মাঝে একবার মিয়ানমার তাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছিল, তবে যারা এখানে আছে তারা ফিরতে চাইছিল না। কারণ তারা এখনো আতঙ্কগ্রস্ত। আমরা মিয়ানমারকেও বললাম, একটা ভালো পরিস্থিতি তৈরি করুন। যেন তাদের ভেতর থেকে ভয়ভীতি আর সন্দেহ চলে যায়, নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে।

রোহিঙ্গাদের জন্য বায়োমেট্টিক্স পদ্ধতিতে রঙিন পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ নেই তাদের। প্রত্যেক আইডি কার্ডে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) স্বাক্ষর রয়েছে। তারা যে মিয়ানমারেরই নাগরিক, এখন তার নথিভুক্ত প্রমাণ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।

কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, ওরা তো বলছে নিয়ে যাবে। ভারত মিয়ানমারের পক্ষে আছে, চীনও মিয়ানমারের পক্ষে।