আশায় হাবিব মোল্লা চেষ্টায় নবী উল্লাহ|112728|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আশায় হাবিব মোল্লা চেষ্টায় নবী উল্লাহ
উৎপল রায়

আশায় হাবিব মোল্লা চেষ্টায় নবী উল্লাহ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলীর একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসন। কয়েক দিন ধরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার যেমন চলছে, তেমনি রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক-নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ভোটের মাঠে তারা সমানতালে কাজ করতে পারছেন না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও ধরপাকড় চলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তারা ভেটের মাঠে নামছেন না। 

এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর সবুর আসুদ, এছাড়া পীরসাহেব চরমোনাই মনোনীত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ মো. আলতাফ হোসেন,  ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ আবদুুল কাইয়ুম। তবে মূল লড়াই হাবিব মোল্লা ও নবী উল্লাহ নবীর মধ্যেই হবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

সরজমিনে যাত্রাবাড়ী, ডেমরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব মোল্লা। পুরো নির্বাচনী এলাকা নৌকা ও তার ছবিসম্বলিত পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে। নিয়মিত গণসংযোগ ও সমাবেশ করছেন তিনি। আর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তবে, গণসংযোগ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রতিনিয়তই যাচ্ছেন নবী উল্লাহ নবী। আর নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে যা বোঝায়, সেটি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

দনিয়া ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান ও কদমতলী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জুম্মন মিয়া ওরফে জুম্মন চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের দু-চারজন নেতাকর্মীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও আমাদের প্রার্থী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করছি এই পরিস্থিতিতেও নির্বাচনী মাঠ ধরে রাখার জন্য।’

তবে এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লা। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো বাধা দেওয়া দূরে থাক তাদের ধারেকাছেও কেউ যাচ্ছে না। বরং তারাই আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে।’

ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, কৌশল হিসেবে সারা দেশে যেসব আসনে মহাজোটের প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, এটিও তার একটি।
আব্দুস সবুর আসুদের কর্মী সমর্থকদের দাবি, এই কয়েকদিন নির্বাচনী মাঠে যেভাবে তিনি সক্রিয় রয়েছেন তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীরই মাথা ব্যথার কারণ হতে পারেন তিনি। অবশ্য সেজন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের প্রত্যাশা কর্মী-সমর্থকদের।