আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে আশাবাদী বিএনপিও|112751|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন
আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে আশাবাদী বিএনপিও
মনির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে আশাবাদী বিএনপিও

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে নির্বাচনী প্রচার জমে উঠেছে। প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠকে ব্যস্ত তারা। বসে নেই প্রার্থীদের স্ত্রীরাও। মাইকিং আর নেতাকর্মী-সমর্থকদের সেøাগানে মুখর পাড়া-মহল্লা। চারদিকে ভোট-উৎসবের আমেজ। তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপ্রার্থীরা।

এ আসনে ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সায়েদুল হক। সায়েদুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। এবার তিনিই আওয়ামী লীগ থেকে মহাজোটের প্রার্থী। মাত্র আট মাসেই তিনি নাসিরনগর সদর বাজারকে প্রথমবারের মতো ইজারামুক্ত করে প্রশংসা পান। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ, নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাজ চালু আছে। এ আসনে ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৭০। নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার ৩৫ হাজারেরও বেশি। এটিকে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক মনে করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফি উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নাসিরনগরে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আছে। মাঠ পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মী সক্রিয় আছে। এবারো এ আসনে আমরাই জিতব। আমাদের প্রার্থী তরুণ, উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের ভয়ের কিছু নেই।’

স্বাধীনতার পর এ আসনে বিএনপি থেকে কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি। এবার বিএনপির হয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ একরামুজ্জামান। একরামুজ্জামান হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক যুবকের কর্মসংস্থান করায় তাদের অনেকে এবার নাসিরনগরে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় আছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকে ভাগ বসানোর আশা করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এমএ হান্নান বলেন, ‘মানুষের কাছে আমাদের প্রার্থীর অবস্থান খুবই ভালো। দলগতভাবেও আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। সাধারণ ভোটাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে আমরাই জিতব।’ এ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে রয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইসলাম উদ্দিন (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল কাশেম মো. আশরাফুল হক (মিনার), ইসলামী আন্দোলনের হুসেইন আহম্মদ (হাতপাখা), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ফায়েজুল হক (গরুর গাড়ি)। শেষ পর্যন্ত এ আসনে কে হাসবেন বিজয়ের হাসি, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ও সৈয়দ একরামুজ্জামান সম্প্রতি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। গত ১০ ডিসেম্বর ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম নাসিরনগর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপির প্রার্থী ও ব্যবসায়ী একরামুজ্জামান ‘কালো টাকা’ দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। এই নিয়ে আমরা শঙ্কিত। কিন্তু নাসিরনগরের মানুষ কখনই টাকার কাছে বিক্রি হয়নি। এবারো হবে না। ২১ ডিসেম্বর একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে একরামুজ্জামান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ও তার নেতাকর্মীরা আচরণবিধি মানছেন না। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ‘মিথ্যা ও গায়েবি’ মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করছে এবং হুমকি দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা নানা হুমকি দিচ্ছে। এতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আমি শঙ্কিত। তিনি তার জীবন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন।