ট্রাম্পের ঘরে আগুন|112756|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ট্রাম্পের ঘরে আগুন
পরাগ মাঝি

ট্রাম্পের ঘরে আগুন

 

ট্রাম্পের ঘরে আগুন লাগা নতুন কিছু নয়। সে ঘর সংসার জীবনই হোক কিংবা হোয়াইট হাউস। সব ঘরে আগুন লাগলেও এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন

 

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প।  দুদিন আগেই তার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। আর এ প্রতিবেদনটি যখন লেখা হচ্ছে, তখনই খবর পাওয়া গেলো ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হয়ে আরো একজনের পদত্যাগের খবর। রোববার সর্বশেষ পদত্যাগ করা ব্যক্তিটি হলেন সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্রেট ম্যাকগুর্ক। মোটা দাগে বলা যায়, ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে পদত্যাগ কিংবা বরখাস্তের শিকার হননি কেবল দুজন ব্যক্তি। তারা হলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আর তার সহধর্মিণী ফার্স্টলেডি মেলানিয়া। পদত্যাগ, পুতিন আর যৌন কেলেঙ্কারি

নিয়ে রীতিমতো হেনস্থা হচ্ছেন ট্রাম্প। লিখেছেন পরাগ মাঝি

নারী কেলেঙ্কারিতে অদ্বিতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদটিকেই বলা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে কাক্সিক্ষত পদ। আর এ পদে যদি কোনো পুরুষ থাকেন তবে, নিঃসন্দেহে তিনি রমণীদের কাছেও কাক্সিক্ষত পুরুষ। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দু’একটি নারীঘটিত ঝামেলায় গা এলাবেন না এমন আব্রাহাম লিংকন আর কই পাওয়া যাবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সঙ্গে ম্যারিলিন মনরোর গোপন রসায়ন নিয়ে গালগল্প একসময় সারা বিশে^ই করা হতো। আর হোয়াইট হাউসে কর্মরত ২২ বছরের তন্বী তরুণী মনিকা লিউনস্কিকে নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারি ছিল একসময় ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। যৌন কেলেঙ্কারিতে নাম আছে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনেরও। তিনি নাকি ভেনাস নামে এক দাসীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতেন। অন্যান্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে থমাস জেফারসন, অ্যান্ড্রু জ্যাকসন, উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন, জন টেইলার, জেমস গারফিল্ড, গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড, ওয়ারেন হার্ডিন, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, আইজেনহাওয়ার, লিন্ড বি জনসন, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, জর্জ ডব্লিউ বুশ তাদের সবারই কম বেশি যৌন কেলেঙ্কারি আছে।

এক্ষেত্রে বয়সেরও একটা ব্যাপার থাকে। বেশি বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত নারী কেলেঙ্কারি এড়িয়েই চলেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বয়স, জাত-পাত কিছুই নাকি মানছেন না। নীলছবির নায়িকা থেকে শুরু করে ঘরের কাজের মেয়ে কোনো কিছু বাদ দেননি। অবস্থা এমন হয়েছে যে, হোয়াইট হাউস থেকে কোনো নারী পদত্যাগ কিংবা বরখাস্তের শিকার হলে সবাই ট্রাম্পের দিকেই বাঁকা চোখে তাকায়। এর আগে হোয়াইট হাউসের কম্যুনিকেশন ডিরেক্টরের পদ থেকে কোনো কারণ না দেখিয়েই পদত্যাগ করেছিলেন সুন্দরী হোপ হিকস।

সম্প্রতি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তার সঙ্গেও ট্রাম্পের যৌন সম্পর্ক ছিল বলে মনে করেন হোয়াইট হাউসের একসময়ের অন্যতম কর্তাব্যক্তি সাংবাদিক ও লেখক মাইকেল উলফ। ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ বইয়ে তিনি দাবি করেন, নিকি হ্যালির সঙ্গে ট্রাম্পের প্রেমের সম্পর্ক আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান ও ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে নিকি হ্যালি ব্যক্তিগত সময় কাটিয়েছেন বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উড়িয়ে দেন হ্যালি।

ট্রাম্পের যত যৌন কেচ্ছা

২০১৮ সাল জুড়েই ট্রাম্পের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে স্টর্মি কা-। স্টর্মি ছিলেন সাবেক পর্নো তারকা। তার সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় আগে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। আর সেই ঘটনায় মুখ বন্ধ রাখতে ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত আইনজীবীর মাধ্যমে স্টরমিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ২ অক্টোবর স্টরমির লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়। এই বইয়ে স্টরমি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে যৌনতা নাকি তার খুব পানসে লাগত।

স্টরমি কা- শেষ হতে না হতেই বারবারা মুরের প্রসঙ্গ তুলে বোমা ফাটান প্লেবয়ের প্রাক্তন মডেল এলকে জেনিসন। জেনিসনের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতীতের প্রেমিকা মার্লা মেপলস যখন গর্ভবতী, সেই সময়ে মার্লাকে লুকিয়ে মুরের সঙ্গে যৌনতায় মত্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, জেনিসনের সামনেই নাকি মুরের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প, বিছানায় ডেকেছিলেন জেনিসনকেও। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জেনিসন জানান, তিনি ও মুর ১৯৯৩ সালে একটি শ্যুটের কাজে নিউ ইয়র্কে এলে নিজের বিলাসবহুল পেন্টহাউজে নিমন্ত্রণ করেন ট্রাম্প। সেখানে ট্রাম্পের রুমে বিছানার ওপর দীর্ঘক্ষণ মদ্যপানের পর গল্প করছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ করেই মুরের শরীর থেকে পোশাক খুলে নিতে শুরু করেন ট্রাম্প। তারপরই যৌনতায় লিপ্ত হন ট্রাম্প ও মুর। তাদের পাশেই বসেছিলেন জেনিসন।

মেলানিয়ার সঙ্গে অস্বাভাবিক দাম্পত্য

ট্রাম্পের চতুর্থ স্ত্রী মেলানিয়া। তার আগে আরো তিনজন স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে ট্রাম্পের। নারীঘটিত বিভিন্ন কারণে স্ত্রী মেলানিয়ার সঙ্গে নাকি মাঝেমাঝেই সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায় তার। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের মধ্যে যে বোঝাপড়ার ঘাটতি আছে তা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি এড়ায়নি। এও জানা গেছে, ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া নাকি রাতে একঘরে থাকেন না। তার ব্যাখ্যা দিয়ে ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ বইয়ে লেখক মাইকেল উলফ দাবি করেন, ৪৭ বছরের প্রাক্তন মডেল মেলানিয়া আর স্বামীর সঙ্গে এক বিছানায় রাত কাটান না। দুজনেই নিজেদের ঘরে দরজা বন্ধ করে দেন। যাতে রাতে কেউ কাউকে বিরক্ত করতে না পারেন।

বইটিতে বলা হয়েছে, মেলানিয়াই নাকি স্বামীর সঙ্গে শুতে অনাগ্রহী। এর কারণ হিসেবে উলফ লিখেন, রাতে বিছানায় বসে চিজবার্গার খান ট্রাম্প, যা মোটেই পছন্দ নয় মেলানিয়ার। শুধু তাই নয়, ঘরে একসঙ্গে তিনটি টিভি চলে। ভোরের দিকে ঘুমাতে যান ট্রাম্প। স্বামীর এই রুটিন অপছন্দ মেলানিয়ার।

তিনি আরো জানিয়েছেন, ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার ভীষণ পছন্দ ট্রাম্পের। কিন্তু সেটি মেলানিয়া ভীষণ অপছন্দ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নারীঘটিত বিভিন্ন ঝামেলা তো আছেই। অনেকেই দাবি করেন, ফার্স্টলেডির মতো সম্মানজনক পদটি যেন হারাতে না হয়, সেজন্য দাঁত চেপে ট্রাম্পের সঙ্গে এখনো সংসার করছেন মেলানিয়া।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একডজন নারীর অভিযোগ 

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অন্তত এক ডজন নারী গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন। তাদের মধ্যে জেসিকা লিডস ২০১৬ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি ভিডিও ব্লগে বলেন, ১৯৮০ সালের কোনো একসময় নিউ ইয়র্কগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার পর পাশের সিটে বসা ট্রাম্প তার স্তন চেপে ধরেন এবং স্কার্টের ভেতর দিয়ে হাত ঢোকানোর চেষ্টা করেন।

২০১৬ সালে র‌্যাচেল ক্রুকস অভিযোগ করেন, রিয়াল স্টেট কোম্পানির ‘রিসিপশনিস্ট’ হিসেবে কাজ করার সময় ট্রাম্প তাকে বিনা অনুমতিতে জাপটে ধরে ঠোঁটে চুমু খেয়েছিলেন।

এনবিসি টিভিতে সামান্থা হলভে জানান, ২০০৬ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতা চলার সময় ট্রাম্প সরাসরি প্রতিযোগীদের পোশাক বদলের কক্ষে ঢোকেন। তখন তাদের বেশিরভাগই নগ্ন ছিলেন বা বাথরোব পরেছিলেন।

২০০৬ সালে ট্রাম্পের রিয়েলিটি শো ‘দ্য প্রিন্টিস’-এ কাজ করতেন সামার জারভোস। ২০০৭ সালে একটি কাজের ব্যাপারে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ট্রাম্প তাকে বিছানায় যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। বিছানায় যাওয়ার ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাম্প সামারকে জোরে চাপ দিয়ে ধরে পাগলের মতো চুমু খেতে থাকেন।

ওয়াশিংটন পোস্টেও ভিডিও ব্লগে ক্রিস্টিন বলেন, ১৯৯০ সালে একটি নাইট ক্লাবে ট্রাম্প তার স্কার্টের মধ্যে জোরপূর্বক হাত ঢুকিয়ে যৌনাঙ্গ পর্যন্ত স্পর্শ করেছিলেন।

১৯৯০ সালে ট্রাম্পের দেওয়া এক পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন লিসা। সেখানে ট্রাম্পের সামনে একটা টেবিলে তাকে নাচতে করতে বাধ্য করা হয়। নিচে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প পোশাকে উঁকি দিয়ে ভেতরটা দেখছিলেন আর ঠিক কী দেখতে পারছেন তা অশ্লীলভাবে বলছিলেন।

পর্নো তারকা জেসিকা ড্রেইক ২০১৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এক প্রেস কনফারেন্সে দাবি করেন, ১১ বছর আগে ট্রাম্প তাকে জোর করে ধর্ষণ করেছেন।

এক সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিজনেস পার্টনার’ জিল হার্থের অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে জোর করে চুমু খেয়েছেন এবং যৌনাঙ্গে হাত দিয়েছেন।

স্বামী, তিন সন্তান এবং শাশুড়ির সামনে ক্যাথিকে চুমু খেয়েছিলেন ট্রাম্প। ১৯৯৭ সালে ট্রাম্পের রিয়ালিটি শোতে পরিচিত হওয়ার সময় ট্রাম্প নাকি সবার উপস্থিতিতেই ক্যাথির সঙ্গে ওই কাণ্ড ঘটান।

সাবেক মিস ফিনল্যান্ড নিনি লাকসোনেনের অভিযোগ, ডেভিড লেটারম্যানের সঙ্গে ‘দ্য লেট শো’ নামে একটি অনুষ্ঠানের ঠিক আগে ফটোশ্যুটের সময় ট্রাম্প তার নিতম্বে চাপ দেন।

২০১৬ সালে মেলিন্ডা অভিযোগ করেন, ২০০৩ সালের ২৪ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার সময় ট্রাম্প তার নিতম্বে হাত দেন। ঘটনার সময় মেলিন্ডার বয়স ছিল ২৩ বছর।

২০০৫ সালে ‘পিপলস’ ম্যাগাজিনের জন্য ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে গেলে স্টোয়নফকে বিনা অনুমতিতে চুমু খান ট্রাম্প।

সাংবাদিক নাতাশার অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে দেয়ালের সঙ্গে জোর করে চেপে ধরে জিভটা ঠোঁটের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আমেরিকার উথা রাজ্যের সাবেক ‘মিস উথা’ টম্পল ট্যাগার্টের অভিযোগ, ট্রাম্প জোর করে তাকে দু’বার চুমু খেয়েছেন। ট্যাগার্টের তখন ২১ বছর বয়স।

১৯৯৮ সালে ইউএস ওপেন টেনিস খেলা দেখে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন কারিনা। তখন ট্রাম্প নিজের গাড়ি থেকে নেমে কারিনার বাহু ধরেন এবং বুকে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ট্রাম্পের ক্যাবিনেট থেকে বিদায় নিলেন যারা

এই মুহূর্তে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ঘর হোয়াইট হাউস। এই ঘরের আগুন যেন নেভানোই যাচ্ছে না। অবশ্য সে চেষ্টা ট্রাম্প করছেন বলেও মনে হচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের বিশাল কর্মযজ্ঞকে একটি ক্রিকেট মাঠের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে ক্রিজে নেমে কেউ হয়তো চার-ছক্কা ছাড়াই কোনো রকম টিকে আছেন আবার কেউ ফিরছেন ঝটপট বোল্ড আউট হয়ে শূন্য রানে। একের পর এক উইকেট পতন। সর্বশেষ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস এবং সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি ব্রেট ম্যাকগুর্কের পদত্যাগ ছাড়াও এখন পর্যন্ত যারা সাজঘরে ফিরেছেন তাদের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ।

২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত যারা পদচ্যুত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তাদের মধ্যে জেমস কোমি অন্যতম। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাবেক এফবিআই প্রধান কোমি। দায়িত্ব নেওয়ার পর মে মাসেই কোমিকে অপসারণ করেন ট্রাম্প। উইকেট পতনের শুরু এখান থেকেই।

ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন নীতির আদেশ বাস্তবায়ন না করতে বিচার বিভাগের আইনজীবীদের নির্দেশ দেওয়ায় গত জানুয়ারিতে পদ হারান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সেলি ইয়েটস।

ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নিয়ে এক রুশ দূতের সঙ্গে বৈঠক ও মাইক পেন্সকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে পদ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন।

ওবামার সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৪৬ আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগের আদেশ দিলে সে আদেশের তোয়াক্কা করেননি নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি প্রিত ভারারা। ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন মার্চ মাসে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গভর্নমেন্ট ইথিকস-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়ালটার সোওব মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট এবং প্রেস টিমের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মে মাসে পদত্যাগ করেন হোয়াইট হাউস কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মাইকেল ডুবকে। জুলাই মাসে পদ থেকে সরে দাঁড়ান হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ প্রিবাস।

স্কারামুচিকে কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ২১ জুলাই হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়েন শন স্পাইসার। স্কারামুচি দ্বন্দ্বের দ্বিতীয় বলি হোয়াইট হাউসের অ্যাসিটেন্ট প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল শর্ট।

হোয়াইট কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরের দায়িত্বটা সুখকর হয়নি অ্যান্তনি স্কারামুচির জন্যও। দায়িত্ব নেওয়ার এগার দিন পর তাকে অপসারণ করা হয়। তার প্রস্থান একেবারে ক্রিজে নেমেই বোল্ড আউট হওয়ার মতো।

ট্রাম্পের আস্থাভাজন স্টিভ ব্যানন ছিলেন চিফ স্ট্র্যাটেজিস্টের দায়িত্বে। মতের দ্বন্দ্বে গত বছরের ১৮ আগস্ট তাকেও বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ক্যাম্পেইনবিরোধী ব্রিটিশ ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেভাস্তিয়ান নাজি গ্রুপের সঙ্গে যোগসূত্রে অভিযোগে পদ হারান।

ওবামা কেয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যোগসাজশ ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের বিপুল টাকা খরচ করে ভ্রমণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন ট্রাম্পের অন্যতম সহযোদ্ধা ট্রম প্রাইস।

ক্রিসমাস পার্টিতে অগ্নিকা-ের একটি ঘটনায় বিবাদে জড়িয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পদ থেকে সরে দাঁড়ান ট্রাম্পের আফ্রো-আমেরিকান বিষয়ক সিনিয়র সহকারী ওমারোসা।

স্ত্রীকে নির্যাতন আর পরকীয়ার অভিযোগে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করেন হোয়াইট হাউস স্টাফ সেক্রেটারি রব পর্টার।

পর্টারের মতো স্ত্রীর অভিযোগে হাউসের বক্তব্য লেখক ডেভিড সোরেনসনকে পদ ছাড়তে হয়।

ট্রাম্পের যে কজন বিশ্বস্ত ও অনুগত সহকারী ছিল তাদের একজন ছিলেন হোপ হিকস। সবাইকে তাক লাগিয়ে মার্চ মাসে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টরের পদটি ছেড়ে দেন তিনি।

স্টিল আর অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ট্রাম্পের শুল্কনীতির ঘোর বিরোধিতা করে গত ৬ মার্চ পদ থেকে সরে দাঁড়ান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গেরি কন।

মাইক পেন্স আর পল রাইয়ান এর পর ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় ক্ষমতাধর ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। বেশ কিছু ইস্যুতে বনিবনা না হওয়ায় গত ১৩ মার্চ টিলারসনকে অপসারণের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

গত ২২ মার্চ এইচ আর ম্যাক মাস্টারকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এজেন্সিগুলোকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ তৈরি আর নীতি ভাঙার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় ভেটেনার্স অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী ডেভিড শালকিনকে।

গত ৯ অক্টোবর এ বছরের শেষেই জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী নিকি হ্যালি।

হায়াইট হাউসের পরামর্শক ডন ম্যাকগানকে না জানিয়েই গত ২৯ আগস্ট এক টুইটের মাধ্যমে তার পদ খালি হওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির প্রশাসকের পদ থেকে গত ৫ জুলাই পদত্যাগের ঘোষণা দেন পুইট।

মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে গত ১৬ মার্চ বরখাস্ত হন ম্যাককেবে।

পদত্যাগ করা এবং পদত্যাগে বাধ্য হওয়াদের তালিকাটা আরো অনেক দীর্ঘ।