শিশুর বমি? কী করবেন?|112757|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
শিশুর বমি? কী করবেন?
লায়লা আরজুমান্দ

শিশুর বমি? কী করবেন?

প্রতীকী ছবি

মা-বাবারা শিশুর কান্না নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা খুব বেশি গুরুতর কিছু নয়। অনেকে বলেন শিশু খাওয়ার পরপর বমি করছে। তবে সেটা কিন্তু বমি নাও হতে পারে। কারণ শিশু দুধ খাওয়ার সময় প্রচুর বাতাস পেটের মধ্যে ঢুকে যায়। এই বাতাস যখন পাকস্থলী থেকে বের হয় তখন বেশ কিছু দুধও সঙ্গে বের হয়ে যায়। আপনি হয়তো এটাকেই বমি ভাবছেন। এটা কিন্তু বমি না। এটাকে বলে ‘দুধ তোলা’। এটা স্বাভাবিক। এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে শিশুর বয়স যখন ৫/৬ মাস হয়ে যায় তখন ধীরে ধীরে এই দুধ তোলা বন্ধ হয়ে যায়।

শিশু যখন ‘দুধ তোলে’ তখন তার মধ্যে কষ্টের কোনো চিহ্ন আপনি দেখতে পাবেন না। কিন্তু শিশু যখন বমি করে তখন পেটের খাবার সজোরে বেরিয়ে আসতে আসে। এতে তার খুব কষ্ট হয় ও কান্নাকাটিও করে। বমির সঙ্গে আরো কিছু উপসর্গ থাকতে পারে যেমন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, জ্বর জ্বর ভাব।

যদি বমি করে শিশু তবে তার কারণগুলো খুঁজে বের করা জরুরি। তাহলে শিশু আরাম পাবে।

খাবার খেয়াল রাখুন

খাবারে সমস্যার কারণে শিশুর বমি হতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়ানো হয়ে গেলে শিশু বমি করে দিতে পারে। কোনো খাবার হজম না হলে, খাবারে এলার্জি হলেও বমি হতে পারে। নতুন কোনো খাবার শিশুকে দেওয়ার পর খেয়াল রাখুন সেটা তার হজম হচ্ছে কি না। আরেকটি কারণ হতে পারে ফর্মুলা মিল্ক বা মায়ের দুধের কোনো প্রোটিনে শিশুর এলার্জি থাকলে। তবে খুব কম হয়ে থাকে।

ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন

শিশুর শ্বাসতন্ত্রে কোনো ইনফেকশন থাকলে বমি হতে পারে। বিশেষ করে এটা হয় কাশির সময়। শিশুরা কফ বের করতে পারে না। সে জন্যও অনেক সময় বমি করে দেয়। তাছাড়া পাকস্থলী ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলেও বমি হয়। তখন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেমনÑ ডায়রিয়া, খাবার অরুচি, পেটে ব্যথা ও জ্বর। এছাড়া মূত্রনালিতে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য ইনফেকশনের কারণেও বমি হয়।

কান্না

অতিরিক্ত কান্না করলেও শিশু বমি করতে পারে। কান্নার সময় করা বমিতে শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না। তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তাছাড়া মোশন সিকনেস, ফুড পয়জনিংয়ের সময়ও বমি হয়।

বমি করলে করণীয়

-বমি হলে শিশুকে সোজা করে ধরে রাখুন।

-অনেক চিকিৎসকই পরামর্শ দেয় বমি হলে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত শক্ত খাবার না দিতে।

-পানিশূন্যতা যাতে না হয় তাই বেশি করে খাবার স্যালাইন খাওয়ান।

-জোর করবেন না, অল্প অল্প করে বারেবারে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

-যদি স্যালাইনও বের করে দেয় তবে চিকিৎকের পরামর্শ নিন।

-কোনো ধরনের জুস দেবেন না এ সময়।

-শিশুকে বিশ্রামে রাখুন। যত ধকল কম যায় তত ভালো।

-মোশন সিকনেস থাকলে ভ্রমণের সময় কিছুক্ষণ পরপর বিরতি নিন। এতে করে শিশু বিশুদ্ধ বাতাস পাবে।

শিশুর বমি যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি হয় সেই সঙ্গে জ্বর থাকে, শিশু যদি কাহিল হয়ে পড়ে, পানিশূন্যতায় ভোগে তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। ভালো থাকুক সব শিশু।

বেবি কেয়ার অবলম্বনে