মঙ্গা বলে আর কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রী|112810|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
মঙ্গা বলে আর কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রী
মামুন অর রশিদ, রংপুর থেকে

মঙ্গা বলে আর কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা আর নেই বলে দাবি করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি এ দাবি করেন।

বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিলে মানুষের উন্নয়ন হয়। আমরা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি, আন্দোলন করেছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের পুরাতন একটি রাজনৈতিক দল, যেটি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন, যাতে করে আবার ক্ষমতায় গিয়ে আপনাদের সেবা করতে পারি।’

উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা সমস্যা কেটে গেছে দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই অঞ্চলে ছিল মঙ্গা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আর মঙ্গা নেই। কেউ না খেয়ে আর থাকে না। পুরো রংপুর অঞ্চল ছিল দুর্ভিক্ষকবলিত এলাকা; এখন আর দুর্ভিক্ষ নেই। আপনারা নৌকায় বারবার ভোট দিয়েছেন বলে উন্নয়ন হয়েছে।’ ওই সময় উত্তরবঙ্গে আরো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ আরেকবার ক্ষমতায় এলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সারা দেশের মতো রংপুরেও ব্যাপক উন্নয়ন হবে। ওই সময় তিনি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন এলাকায় ক্লিনিক করে দিয়েছি। প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। মোবাইলের মাধ্যমে ১ কোটি ৪০ লাখ অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমাদের মা-বোনদের দুর্গতিতে পড়তে না হয়। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুতের উন্নয়ন করে গ্রামপর্যায়ে আমরা তা পৌঁছে দিচ্ছি। যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে সোলার পৌঁছে দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। কৃষকদের সার-বীজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে একটি জমিও অনাবাদি থাকবে না।’ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক মসজিদ হবে, পানির ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য আপনারা ভালো থাকবেন, দুবেলা পেট ভরে খাবেন।’ তিনি আরো বলেন, “যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, যাতে করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়; কেউ যেন বেকার হয়ে না থাকে। কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা হয়েছে। কোনোদিন যেন এ অঞ্চলে মঙ্গা না আসে, সেজন্য ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

জনসভা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিমানে করে সৈয়দপুর হয়ে সড়কপথে তারাগঞ্জে পৌঁছান। সকাল থেকেই নৌকার নেতাকর্মীরা তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে নৌকা মার্কার প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে ওই জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রংপুর-২ আসনের প্রার্থী ডিউক, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তার শ^শুরবাড়ি পীরগঞ্জে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরী আমার মেয়ের মতো। আমি তাকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলাম। আমি পেছন থেকে তাকে সাহায্য করে যাব। পুতুল, জয় ইতিমধ্যে সাহায্য করে যাচ্ছে।’

গতকাল বিকেলে পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিরীন শারমিন চৌধুরীর হাত উঁচু করে ধরে বলেন, ‘শিরীন নির্বাচিত হলে আমরা সরকার গঠন করলে আবারও তাকে স্পিকার নির্বাচিত করতে পারব। ইতিমধ্যে সে আপনাদের হয়ে কাজ করছে। তাই আপনারা ৩০ তারিখ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’

স্বামীর কবর জিয়ারত : এদিকে তারাগঞ্জে জনসভায় বক্তব্য শেষে পীরগঞ্জে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার স্বামী, পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া সুধার কবর জিয়ারত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে যান।