জার্মানিতে ১৬ বছর ধরে বন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’|112830|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
জার্মানিতে ১৬ বছর ধরে বন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’
রূপান্তর ডেস্ক

জার্মানিতে ১৬ বছর ধরে বন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’

জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু প্রফেসরিয়াল চেয়ার বন্ধ রয়েছে ১৬ বছর ধরে। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যায় এ চেয়ারটি। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরেও তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ডয়চে ভেলের খবরে জানানো হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ বিষয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রফেসরিয়াল ফেলোশিপ’ চেয়ার। চালু হওয়ার প্রথম দুই বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা এ ফেলোশিপের আওতায় যোগ দেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ বিষয়ে পাঠ দেওয়া শুরু করেন। তবে ২০০২ সালের পর আর কোনো শিক্ষক এ ফেলোশিপের আওতায় যোগ দেননি। ফলে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের বাইরে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে প্রতিষ্ঠিত প্রফেসরিয়াল চেয়ারটির কার্যক্রম।

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, মডার্ন ইন্ডোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হান্স হারডার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যসহ নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা বিষয়ে পাঠদানও করেন তিনি। তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, এ চেয়ারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বিষয়ে এই ইনস্টিটিউটে আর ততটা কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের আগ্রহ আছে। এই ইনস্টিটিউটে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত।’

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নামিয়া আক্তার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার অত্যন্ত ভালো একটি সুযোগ।’ তার মতে, বাংলাদেশ বিষয়ে এখন কিছু গবেষণামূলক কাজ হচ্ছে, কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। প্রায় ১৬ বছর ধরে এ পদটি শূন্য থাকার বিষয়ে সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ২০০২ সালের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো শিক্ষককে পাঠানো হয়নি কিংবা এ প্রক্রিয়াটিকে চালিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সেক্রেটারি ড. মার্টিন গিজেলমান বলেন, ‘এটি চালু করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় এটি চালুর ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।’

প্রফেসরিয়াল চেয়ারটি স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন। জার্মানিতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সাবেক এই কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন চেয়ার থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ।’

এদিকে চেয়ারটি চালুর কোনো উদ্যোগ আছে কি নাÑ জানতে চাইলে জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে জার্মানিতে যোগ দেওয়ার পর এ বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গ যোগাযোগ করেছেন। তবে চেয়ারটি চালুর সঙ্গে যেহেতু অর্থনৈতিক বিষয় যুক্ত, সেহেতু বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।