হাড়ের লাইব্রেরি|112907|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
হাড়ের লাইব্রেরি
নয়ন চক্রবর্ত্তী, চট্টগ্রাম

হাড়ের লাইব্রেরি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থাপন করা হয়েছে বোনস্ লাইব্রেরি। ২০৬টি হাড় নিয়ে ১ সেট বোনসের দাম কমপক্ষে ৩৫ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ চিন্তা করে এই বোনস লাইব্রেরি স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।

চমেক ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদের যৌথ প্রচেষ্টায় এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছে এই বোনস লাইব্রেরি । চমেক অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রয়াত প্রফেসর ডা. মনসুর খলিলের নামে এই বোনস লাইব্রেরির নামকরণ করা হয়।

কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের ২য় তলায় স্থাপিত বোনস লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে মানবদেহের বিভিন্ন ধরনের হাড়। লাইব্রেরিতে আরো আছে ২৫ ধরনের ১৫০টি গবেষণাধর্মী মূল্যবান গ্রন্থ, যা মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও হাড় নিয়ে গবেষণাকাজে বিশেষ সহায়ক। এই লাইব্রেরির কারণে সহায়ক হবে হাড় নিয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা।

ঠাকুরগাঁও সদরের রাফিউল ইসলাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র । অর্থাভাবে তিনিও বোনস সেট কিনতে পারেননি, কিন্তু লাইব্রেরি হওয়ার পর বোনস নিয়েই তারা এখন  পড়াশোনা করতে পারেন।

রাফি বলেন ‘অ্যানাটমি বিষয়ে পড়তে হলে বোনস সেটের বিকল্প নেই । কারণ বোনসের বিষয়ে তাত্ত্বিকজ্ঞানের চেয়েও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রয়োজনীয় ।’

চমেকের এই লাইব্রেরি স্থাপনের পর উল্লসিত শিক্ষার্থীরা। কেননা শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হাড় এক কক্ষেই পাচ্ছেন তারা, সেই সঙ্গে মিলছে বইও ।

চমেক ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক রাফি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে বোনস বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে তাদের পরিকল্পনা আছে, বর্তমানে ১৬ সেট বোনস আছে , ৫০ সেট বোনস হলেই বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। লাইব্রেরির ভেতর ঢুকলেই দেখা যাবে গোলাকার টেবিলে রাখা মানুষের হাড়গোড়, পা, মাথার খুলি। এরপর দেখা মিলবে মানুষের আস্ত কঙ্কালের। টেবিলে রাখা প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে রাখা হয়েছে তথ্য সমন্বিত বৈজ্ঞানিক নাম, হাড়ের নম্বর। শিক্ষার্থীদের গ্রুপ করে আলোচনার মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম চালাতে এই অ্যানাটমি পাঠাগার ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই বোনস লাইব্রেরি ব্যবহারিক জ্ঞানের ভা-ার বলে অভিহিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আশরাফুজ্জামান ।

তিনি জানান, চমেকের এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণায় দেশের অনেক মেডিকেল কলেজে বোনস লাইব্রেরি গড়ে তোলা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাড়া বিশে^র কোথাও বোনস লাইব্রেরি নেই , কয়েকটি দেশে বোনস মিউজিয়াম আছে।

কিন্তু এতগুলো বোনস সেট নিয়ে লাইব্রেরি শুধু চট্টগ্রামে। ৬০তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগামী বছরে আমার প্রথম পেশাগত চূড়ান্ত পরীক্ষা, এক সেট বোনস অর্থাভাবে কিনতে পারিনি।

তবে আনন্দের বিষয় হলো লাইব্রেরি হওয়ার কারণে আমার সেই চিন্তাটা নেই।

এ রকম অনেক শিক্ষার্থীর আলোর ঠিকানা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই হাড়ের পাঠাগার।