লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে|112910|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে
ফিরোজ মিয়াজী

লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে

সাড়ে তিন লাখ ভোটারসমৃদ্ধ মিরপুর, কাফরুল ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বিভিন্ন দলের ১০ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে মূলত নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে। এই আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার। আর ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন ২০ দল মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকার এই একটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে।

অন্য আসনগুলোর মতো এখানেও পোস্টার বলতেই নৌকার প্রার্থীর। আসনটির বেশ কিছু এলাকা ঘুরে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া, পর্বতা এলাকায় হাতপাখা, লাঙল ও কাস্তে প্রতীকের কিছু পোস্টারের দেখা মিললেও কোথাও দেখা মেলেনি ধানের শীষের পোস্টার। পোস্টারের মতো প্রকাশ্য মাঠেও আছেন কেবল কামাল মজুমদারই।

এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, অনেকে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে চেনেনই না। এমনকি নৌকা ছাড়া অন্য কোনো মার্কা আছে কি না তাও জানেন না। ধানের শীষের কোনো প্রকাশ্য প্রচার দেখা না গেলেও তারা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে বাসায় বাসায় গিয়ে প্রচার কাজ চালাচ্ছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন আসনটির ধানের শীষের সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি কেন্দ্রে আলাদা কমিটি করা হয়েছে, তারাই বাসায় বাসায় গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছে। এছাড়া এলাকার সবার মোবাইলে ধানের শীষে ভোট চেয়ে খুদেবার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তারা ৪৬ হাজার ধানের শীষের পোস্টার লাগালেও পুলিশ ও ক্ষমতাসীনরা সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেছে। তাদের একজন সমন্বয়ক কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ বলেও এ সময় জানান তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ১৯৯১ সালে নৌকা প্রতীকে এই আসন থেকেই নির্বাচন করে ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এই নির্বাচনের পরই মতপার্থক্যের জেরে আওয়ামী লীগ থেকে সরে যান কামাল হোসেন। ধানের শীষ এখন কামাল হোসেনের নির্বাচনী জোটের প্রতীক। ঐক্যফ্রন্টে না থাকলেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত এই প্রতীকেই নির্বাচন করছে। জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তারা।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভরসা করেই এই এলাকায় দলটি প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান ধানের শীষের সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মীর কাসেম আলী এই এলাকায় অনেক স্কুল-মাদ্রাসা তৈরি করেছেন। ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে আমাদের সমর্থকও বেশি।’

এদিকে মিছিল গণসংযোগের মাধ্যমে নৌকার পক্ষে বেশ সরব প্রচারণা চলছে। তাদের কয়েকটি প্রচারকেন্দ্রে হামলার খবর এসেছে বিভিন্ন পত্রিকায়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এর জন্য ধানের শীষের সমর্থকদের দায়ী করেন। হামলার ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজন জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারও করেছে। যদিও এক বিবৃতিতে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুর রহমান এই হামলার নিন্দা জানান।

টানা দুই মেয়াদে আসনটিতে সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন কামাল মজুমদার। বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে মনিপুর স্কুলে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। অনেকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে তার ব্যর্থতার কথাও জানান। চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ইবরাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা নাহিদা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা দেয়াল বানাতে গেলে বা পুরোনো দেয়াল ভাঙতে গেলেও চাঁদা দিতে হয়। এবারই আমি প্রথম ভোটার হয়েছি। কিন্তু কাউকেই ভোট দেবো না।’ স্থানীয় দোকানদার আফজাল আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে কেউ ভোট দেবে না। নৌকার জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।’