logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
শীতের যত সমস্যা
লায়লা আরজুমান্দ

শীতের যত সমস্যা

শীতে শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে কম তাপমাত্রার সংযোজন আর ধুলাবালুর উপদ্রব সব মিলিয়েই সৃষ্টি করে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা। এ সময় শ্বাসতন্ত্রের রোগের পাশাপাশি অন্য রোগেও আক্রান্ত হয় অনেকে। তাই এসব সমস্যার জন্য প্রয়োজন হয় কিছু সতর্কতার।

কাশির মতো প্রকট না হলেও শীতে আরো অনেক রোগ ও সমস্যার প্রকোপ বেড়ে যায়। যেমনÑ

আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা শীতে বাড়তে পারে। মূলত বয়স্কদেরই এ সমস্যা হয়। যারা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগে ভোগেন, তাদের বেলায় এ সমস্যাটা আরো প্রকট। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য গরম কাপড়, ঘরে রুম হিটার (যদি থাকে), গ্লাভস, কানঢাকা টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদিন হালকা গরম পানিতে গোসল করা ভালো।

বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা কম থাকে, তাই শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে শুষে নেয় পানি। ঘাম ও তৈলাক্ত পদার্থ কম তৈরি হয়। ফলে শীতের শুষ্কতায় অনেকের ত্বক আরো শুষ্ক হয়, ত্বক ফেটে যায় এবং চর্মরোগ দেখা দেয়। যেমন : একজিমা, চুলকানি, স্ক্যাবিস ইত্যাদি। তাই শীতকালে ত্বকের বাড়তি যতœ প্রয়োজন। শুষ্কতা কমানোর জন্য ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিন, ভালো কোনো তেল বা ময়েশ্চারাইজ লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখে ভালো কোল্ড ক্রিম, ভ্যাসলিন, ঠোঁটে লাগানোর জন্য লিপজেল, লিপবাম বা চ্যাপস্টিক ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। জিভ দিয়ে বারবার ঠোঁট লেহন করা উচিত না।

অনেক সময় কড়া রোদও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বাইরে গেলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ভালো হয়। অনেক সময় ধরে কড়া রোদ না পোহানোই ভালো।

কিছু কিছু রোগে তীব্র শীতে অনেকের হাতের আঙুল নীল হয়ে যায়। তারা অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন, কোনোভাবেই ঠাণ্ডা না লাগে।

ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় রক্তচাপ বাড়তে পারে। ঠাণ্ডার ওষুধে বা ফিনাইলেফ্রিন জাতীয় ওষুধ রক্তচাপ বাড়ায়। শীত তীব্র হলে হৃদযন্ত্রের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে।

শীতের মারাত্মক সমস্যা হাইপোথার্মিয়া, অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া, যা মৃত্যুও ঘটাতে পারে। মূলত যারা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ব্যবহার করেন না এবং শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যারা নিজেদের যত্ন নিতে অপারগ, তারাই এর শিকার।

Ñছোট বাচ্চাদের বেলায় সর্দি-কাশির সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়াজনিত রোগও বাড়তে পারে। কারণ এ সময় রোটা ভাইরাসের আক্রমণও বেড়ে যায়। বাচ্চাকে সব সময় ফোটানো পানি খাওয়ানো উচিত। রাস্তার খাবার-দাবার, কাটা ফল, কোল্ড ড্রিংক ইত্যাদি না খাওয়ানোই ভালো।

সব সময়ই যে শীতে রোগব্যাধি বাড়বে, তাও সত্য নয়। সাধারণভাবে শীতকালে মানুষের রোগ কম হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও যথেষ্ট কমে যায়। এমনকি ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে শ্বাসযন্ত্রের বা ত্বকের রোগ ছাড়া অন্যান্য রোগ খুব একটা দেখা যায় না। তাই বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

সম্পাদনা : লায়লা আরজুমান্দ