প্রচারে সরব আ.লীগ, হামলা-বাধার অভিযোগ বিএনপির|112970|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
পটুয়াখালীর চারটি আসন
প্রচারে সরব আ.লীগ, হামলা-বাধার অভিযোগ বিএনপির
জাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী

প্রচারে সরব আ.লীগ, হামলা-বাধার অভিযোগ বিএনপির

গত এক দশকের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আর হামলা-মামলাসহ প্রচারে বাধা দেওয়ার নানা অভিযোগ তুলে মাঠের প্রচারে কার্যত স্থবির বিএনপি।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে প্রচারে। তাদের কারো কারো প্রচারে বাধা দেওয়াসহ হামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তীর আওয়ামী লীগের দিকে থাকলেও তারা বলছে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা। তাদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করতে এমন অপপ্রচারে নেমেছে বিএনপি। আটটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালীতে সংসদীয় আসন রয়েছে চারটি। চারটি আসনে আটটি দলের মোট ২০ জন প্রার্থী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৭। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রতিটি আসনে রাত-দিন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এসব আসনের আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকী) আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া এবং বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং বিএনপির সালমা আলম। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নজরুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির সাহাবুদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা ও গলাচিপা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিইসি নুরুল হুদার ভাগিনা এস এম শাহজাদা। বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী উপজেলা ও মহিপুর থানা) আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়ছেন অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব। আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা এ বি এম মোশারফ হোসেন।

পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারের প্রতিটি মুহূর্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছ। এ সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ এসবে বিশ্বাস করে না।

পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সালমা আলম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে পথসভায় আসতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পথে পথে বাধা দেওয়াসহ মারধর করা হয়েছে। ভোটারদের শঙ্কা, তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না। এসব অভিযোগ নাকচ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘অতীতে যতবার নির্বাচন হয়েছে জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। ৭৯ সাল থেকে আমি ছয়বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি।’ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম শাহজাদার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সিইসির কাছে খোলা চিঠি লিখে পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, ‘প্রচারে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি যেহেতু সিইসির ভাগিনা এখানে নির্বাচন করছেন সেহেতু গণমাধ্যমসহ পর্যবেক্ষকদের আলাদা দৃষ্টি এ আসনে থাকবে।’ আর সংঘটিত এসব ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের বলে উল্লেখ করেছেন এস এম শাহজাদা।