আঞ্চলিক দলের দিকে তাকিয়ে রাঙ্গামাটির প্রার্থীরা|112996|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আঞ্চলিক দলের দিকে তাকিয়ে রাঙ্গামাটির প্রার্থীরা
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

আঞ্চলিক দলের দিকে তাকিয়ে রাঙ্গামাটির প্রার্থীরা

নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে পাহাড়। রাঙ্গামাটি আসনে ছয় প্রার্থী নেমে পড়েছেন ভোটযুদ্ধে। প্রতিদিনই একেক জায়গায় নির্বাচনী প্রচারে যাচ্ছেন তারা। বসে নেই তাদের সমর্থকরাও। তারাও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ হিসাব কষছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী সাংসদ? কার ভাগ্যে জুটছে আয়তনের দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় আসনটি। আর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য প্রার্থীরাও তাকিয়ে আছেন আঞ্চলিক দলগুলোর দিকে। শত্রুকে মিত্র বানিয়ে ভোটযুদ্ধে জেতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এবার রাঙ্গামাটি আসনে ছয় প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিলেও লড়াই হবে আওয়ামী লীগের দীপংকর তালুকদার, বিএনপির মনি স্বপন দেওয়ান ও আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের মধ্যে। এখনো কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে তেমনটা আঁচ পাওয়া না গেলেও নিজেদের ভোটব্যাংকের পাশাপাশি যাদের ওপর ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে, শেষ পর্যন্ত তাদের সমর্থনের ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তৎকালীন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার জনসংহতি সমিতির প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের কাছে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়। নির্বাচনে হারার পর থেকেই দীপংকর তালুকদার পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচ বছর মাঠেই পড়ে ছিলেন। সংসদ সদস্য না থাকলেও তার নির্দেশেই এই উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিচালিত হয়। এতে সেখানে তার নিজস্ব একটি ভোটব্যাংক তৈরি হয়। বরাবরের মতো এবারও সংখ্যালঘু ভোট তার বাক্সেই যাবে। তবে এসব ছাড়িয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সমর্থনও তার জয়ের পথে বড় সহায়ক কিংবা বাধা হতে পারে। যদি কোনো আঞ্চলিক দলের সমর্থন তিনি আদায় করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে জয় পাওয়া কষ্টকর হবে তার জন্য।

২০০১ সালে নির্বাচনে হঠাৎই এসে জনসংহতি সমিতির নীরব সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেন মনি স্বপন দেওয়ান। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। কিন্তু মেয়াদের শেষদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দল থেকে বের হয়ে যান। দীর্ঘ এক দশকের নীরবতা শেষে স্থানীয় বিএনপির গ্রুপিং কাজে লাগিয়ে আবার দলটির মনোনয়ন পান তিনি। এরপর নেমে পড়েছেন প্রচারে। বরাবরই পুনর্বাসিত বাঙালিদের ভোট পেয়ে আসা দলটি এবারও তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রয়েছে নিজেদের একটা ভোটব্যাংকও। এবারের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে শুধু ভোটব্যাংক দিয়েই কাজ হবে না। তাই ২০০১ সালের মতো আবার জনসংহতি সমিতির নীরব সমর্থন আশা করছেন দলটি।

গতবার বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন জনসংহতি সমিতির প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো দলটি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেয়। সেবার দলটির প্রার্থী উষাতন তালুকদার প্রায় ৫১ হাজার ভোট পান। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে ঊষাতন তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ ভাগ ভোট তাদের বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেক্ষেত্রে বাঙালির তেমন একটা ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই তার। ব্যক্তি ইমেজে কিছু বাঙালি ভোট সংগ্রহ করতে পারলেও সেটা খুব আহামরি গোছের নয়। সে হিসেবে তার চোখ এককালের পরম শত্রু ইউপিডিএফের দিকে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এককালের শত্রু ইউপিডিএফের সঙ্গে এরই মধ্যে জনসংহতি সমিতির যে মনোমালিন্য ছিল, সেটা অনেকটা দূর হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের প্রার্থীকে সমর্থন ও রাঙামাটিতে জনসংহতি সমিতিকে সমর্থন দেওয়া হবে এমন সমঝোতায় দল দুটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সে জন্য রাঙামাটি আসনে ইউপিডিএফ থেকে দুজন মনোনয়ন জমা দিলেও এরই মধ্যে দুজনই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। সে হিসেবে জনসংহতি সমিতি শুধু নিজের ভোটের দিকে তাকিয়ে থাকলে জয় পাওয়া অনেকটা কষ্টকর হয়ে পড়বে। তাই ইউপিডিএফের সমর্থনের দিকে তাকিয়ে থাকবে দলটি।