পিইসি,জেএসসিতে বেড়েছে পাসের হার|113017|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
জেএসসিতে কমেছে জিপিএ ৫
পিইসি,জেএসসিতে বেড়েছে পাসের হার
রশিদ আল রুহানী

পিইসি,জেএসসিতে বেড়েছে পাসের হার

পিইসি,জেএসসিতে বেড়েছে পাসের হার

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও সমমানের ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার পাসের হার বেড়েছে। তবে জেএসসি-জেডিসিতে কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

প্রকাশিত ফল থেকে জানা যায়, এবার পিইসিতে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর ইবতেদায়িতে পাসের ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে এ বছর জেএসসি ও জেডিসিতে গড় পাসের হার ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ বছর পাসের হার বেড়েছে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ।গতবার জেএসসি ও জেডিসিতে জিপিএ  ৫ পায় এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ শিক্ষার্থী। কিন্তু এ বছর পায় মাত্র ৬৮ হাজার ৯৫ জন। ধারাবাহিকভাবে জিপিএ ৫ বাড়ার পর হঠাৎ এত কমল কেন জানতে চাইলে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের মতো শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে সরকার শিক্ষাব্যবস্থার নানামুখী সংস্কার করছে। আর এই সংস্কারের অংশ হিসেবেই অন্যান্যবারের মতো এবার চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যুক্ত করা হয়নি। এ কারণেই এ বছর জিপিএ ৫ কম পেয়েছে।’

জেএসসিতে এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চার হাজার ৭৬৯। গতবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান এবারের চেয়ে ৫১০টি বেশি ছিল। এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৩টি। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৫৯টি।

এবার পিইসিতে শতভাগ পাস করেছে ৮৩ হাজার ৪৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেউই পাস করেনি ২৮৩টি বিদ্যালয়ের। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা মাদ্রাসার সংখ্যা ১২ হাজার ৫৭৭টি। শূন্য পাস করা মাদ্রাসার সংখ্যা ২৯টি।

এবার বিদেশি কেন্দ্রের ৯৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচটি। তবে কেউই পাস করেনি, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

এগিয়ে মেয়েরা : এবার সমাপনী দুটি পরীক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করেছে। পিইসিতে ছেলেদের পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ; মেয়েদের ৯৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ইবতেদায়িতে ছেলেদের পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর মেয়েদের পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে জেএসসিতে ছেলেদের পাসের হার ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশ। আর মেয়েদের হার ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা জিপিএ ৫ও বেশি পেয়েছে।

এবার পিইসি ও ইবতেদায়িতে জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৫ ছাত্র ও দুই লাখ ১৩ হাজার ১২২ ছাত্রী। অন্যদিকে জেএসসি ও জেডিসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৮ হাজার ১৯০ ছাত্র ও ৩৯ হাজার ৯০৫ ছাত্রী।

গতকাল ফল প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান জিয়াউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার সব দিক দিয়ে ভালো করেছে মেয়েরা। তবে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও ছেলেরাও ভালো করেছে।’

গতকাল সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। পরে দুপুরে সচিবালয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা। এরপর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনেও ফল জানা গেছে।

এদিকে জেএসসি-পিইসি পরীক্ষা নিয়ে বরাবরের মতোই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরীক্ষা দুটি বাতিল করার দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক আহসান হাবীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছোট্ট বাচ্চাদেরকে এভাবে কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্যে আটকে ফেলা মোটেও উচিত নয়। এটা শিক্ষানীতিও সমর্থন করে না।’

গতবারের চেয়ে পাসের হার বাড়ার বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুদে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ফল ভালো করছে। এটা ইতিবাচক। কিন্তু দেখার বিষয়, সেটা মানসম্পন্ন হচ্ছে কি না। মানসম্পন্ন শিক্ষা বাদ দিয়ে ভালো ফল আর জিপিএ ৫-এর মধ্যেই যদি আমরা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ি, তাহলে কোনো লাভ হবে না। এটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’