এক পরিবারেই নৌকার ৫০০ ভোট |113074|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৬
এক পরিবারেই নৌকার ৫০০ ভোট
অনলাইন ডেস্ক

এক পরিবারেই নৌকার ৫০০ ভোট

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক পরিবারেই পাঁচ শ'র বেশি সমর্থক রয়েছেন আওয়ামী লীগের। এই আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের শেখ ফজলে নূর তাপস।

ভারতের গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, ধানমন্ডি কেন্দ্রের এই এলাকায় '৭০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জিতে এই পার্কে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম গণসংবর্ধনা নিতে আসেন।

বঙ্গবন্ধু এ এলাকায় এসে 'বাদশা মিয়ার' খোঁজ করতেন।  তার হাতে ওই অনুষ্ঠানে তুলে দিয়েছিলেন সাড়ে সাত কেজির একটি স্বর্ণনৌকা।

সেই বাদশা খানের পরিবার আওয়ামী লীগের ভক্ত। এ পরিবারের সদস্যরা এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে নৌকার পক্ষে ভোটের প্রচারে নেমেছেন।

এ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলে নূর তাপস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে। তিনি এ এলাকায় জনপ্রিয়।

আনন্দবাজার আরো জানায়, ঢাকার দক্ষিণে পুরান জনপদ এই হাজারিবাগ। এখানকার বড়সড় পার্কে জনসভা করতে  আসতেন শেখ মুজিবুর রহমান। এসে যার খোঁজ করতেন, সেই বাদশা খান ওরফে ঢাকা মোহামেডান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব কে খালেক দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মারা যান পাকিস্তানি সেনার বেয়নেটের আঘাতে।

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানি পুলিশবাহিনী থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রোষের মুখে পড়েন বাদশা খান। বর্তমানে তারা পাঁচ ভাইয়ের একজনই বেঁচে আছেন।

এলাকাবাসী আনন্দবাজারকে জানায় প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যার সঙ্গে-সুখে দুঃখে জুড়ে থাকা এই তিন প্রজন্ম এলাকায় ভাসিয়ে রেখেছেন নৌকা।

ওই পরিবারের রিজভি খন্দকার নিলয় বলেন, ছোটবেলায় ভাবতাম রাজনীতি করব না। এখন আব্বা, চাচা, নানাদের সঙ্গে বেরিয়ে ক্যানভাস করছি।

'ছোট বেলায় কোনো দিন আমাদের সরকারি স্কুলে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই আসতে দেখিনি। চেয়েচিন্তে পুরান বই নিয়ে পড়তে হতো। কিন্তু আপা (দিদি) আসার পর থেকে পয়লা জানুয়ারি নতুন বই এসে যায়। দশ বছরে এর নড়চড় হয়নি'। 

নিলয়ের আগের প্রজন্মের খন্দকার জামালুদ্দিন লাবু ভীষণ ব্যস্ত প্রতিদিনের পারিবারিক মিটিং নিয়ে। তিনি জানান, এই এক পরিবার থেকে পাঁচ শ’র বেশি ভোট রয়েছে নৌকার।

তাকে দেখা গলে, সবাইকে একত্র করা, এলাকায় ক্যানভাসিং, প্রতিবেশীদের সঙ্গে পান-দোক্তা-ঠান্ডাপানীয় খেতে খেতে ভোট মজলিশ— প্রচারের এ এক অভিনব কৌশল।

বাদশা খানের ভাই বছর পঁচাশির রশিদ সাহেব এখন প্রায় শুয়েই থাকেন।

তিনি বলেন, 'খানসেনাদের অত্যাচার আমার ওপরও কম হয়নি। এখন আর নড়তে পারি না। তবে ভোটটা দিয়ে আসব'।

সেনাবাহিনীর আনাগোনার খবর জোগাড় করে মুক্তিযোদ্ধাদের দিতেন তিনি। 'মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল, প্রাণে বেঁচে গিয়েছি' বলে মাথা নিচু করে দাগ দেখালেন।