অ্যাজমা রোগে কী করবেন?|113137|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
অ্যাজমা রোগে কী করবেন?

অ্যাজমা রোগে কী করবেন?

অ্যাজমা বা হাঁপানির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। সাধারণত শীতকালে এই রোগের প্রকোপ একটু বেশি দেখা যায়। কারণ এ সময় বাতাসে ধুলাবালুর প্রকোপ বেশি থাকে। শিশুসহ যেকোনো বয়সের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ব্যক্তিভেদে অ্যাজমার লক্ষণ ও উপসর্গে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

অ্যাজমা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই প্রদাহের ফলে শ্বাসনালি ফুলে যায় ও অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে হাঁচি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হয়। রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

অ্যাজমার লক্ষণ

অ্যাজমা রোগীর শ্বাসনালিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মিউকাস ক্ষরণ হয়ে শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়। এর ফলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়

 ১. ঘনঘন শ্বাস নেওয়া

 ২. শ্বাসকষ্ট

 ৩. বুক ভার হয়ে থাকা

৪. শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো আওয়াজ হওয়া

 ৫. কাশি ইত্যাদি

অ্যাজমার কারণ

অ্যাজমার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে গবেষকরা ধারণা করেন, কিছু বংশগত ও পরিবেশগত কারণে অ্যাজমা হয়। সব বয়সের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত ঝামেলা বেশি হয়।

১. যাদের রক্তের সম্পর্কে কারো মধ্যে অ্যাজমা থাকে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

২. অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল শ্বাসনালি সহজেই সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে অ্যাজমা হয়।

৩. বাতাসে ভেসে বেড়ানো বিভিন্ন এলার্জেন ও শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাল ইনফেকশনও অ্যাজমার অন্যতম কারণ।

৪. এ ছাড়া বিভিন্ন খাদ্য, পতঙ্গজনিত অ্যালার্জি, ছত্রাকজনিত অ্যালার্জি, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত অ্যালার্জি, ওষুধজনিত অ্যালার্জি ইত্যাদি থেকেও অ্যাজমা হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

অ্যাজমা কখনো সম্পূর্ণ ভালো হয় না। তবে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ এবং লাইফস্টাইল মোডিফিকেশনের মাধ্যমে রোগী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

১. অ্যাজমা রোগীকে সিগারেট/মশার কয়েল/ধূপ/লাকড়ি চুলা/যানবাহনের ধোঁয়া ইত্যাদি যেকোনো ধরনের ধোঁয়া ও ধুলাবালু সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে।

২. ধূমপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে।

৩. বাসায় কার্পেট না রাখাই ভালো। কারণ এতে ধুলাবালু জমে। ঘরবাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

৫. শীতের সময় বা বসন্তের শুরুতে বাতাসে বিভিন্ন পরাগরেণু ভেসে বেড়ায়। তখন অ্যাজমা রোগীদের সমস্য বেড়ে যায়। সে সময় অ্যাজমার প্রতিরোধমূলক ওষুধ নিয়মিত সেবন করতে হবে।

৬. মানসিক চাপ, উৎকণ্ঠা এড়িয়ে চলতে হবে।

৭. বাড়িতে পোষা প্রাণী (কুকুর, বিড়াল) থাকলে নিয়মিত গোসল করাতে হবে বা পরিচ্ছন রাখতে হবে।

অ্যাজমার লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র চিকিৎকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া না হলে রোগীর কষ্টের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই অ্যাজমা প্রতিরোধে সচেতন থাকুন। সুস্থ থাকুন। শীতকাল ভালো কাটুক সবার।

সম্পাদনা : লায়লা আরজুমান্দ
ডা. মো. ইমরানুর রহমান
মেডিক্যাল অফিসার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, নিকলি, কিশোরগঞ্জ