খুলনা-মোংলা রেল চালু ২০২১ সালে|113148|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
খুলনা-মোংলা রেল চালু ২০২১ সালে
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা

খুলনা-মোংলা রেল চালু ২০২১ সালে

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে মোংলা-খুলনা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ৪৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২১ সালের জুনে এই রেলপথ চালু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (খুলনা) মো. আবদুর রহিম জানান, ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৫২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। রেললাইন প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করছে ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

আবদুর রহিম আরো জানান, মোংলার অংশের বেশির ভাগ কাজই শেষ। সেখানে এখন মাটি লেভেলের কাজ চলছে, এরপরই পাথর বসানো হবে। এ কাজ শেষে কংক্রিটের সিøপার বসিয়ে রেলপথ স্থাপন করা হবে। রূপসা নদীর  ওপর দিয়ে রেললাইনটির সংযোগ নেওয়ার কারণে খুলনার অংশে কাজ একটু সময় নিয়েই করতে হচ্ছে। রেললাইনের জন্য রূপসা নদীর ওপর ১৪৩টি স্প্যান বসানো হবে। এরই মধ্যে দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে। 

এ রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে রামপালের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আনা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. আনোয়ার উল হক বলেন, মোংলা বন্দরের স্বার্থে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে খুলনা-মোংলা রেললাইন ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এদিকে রেলপথ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নে খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত অধিকাংশ জলাশয় ও খাল বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উল হক বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়। পরিবেশের কথা চিন্তা করে ১৫টি ব্রিজ ও ২৬টি কালভার্ট করে জলাশয় ও খাল বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান ও খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি শরিফ আতিয়ার বলেন, খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে।

রেল সংযোগ চালু হলে সড়কপথে মোংলা বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। আর ট্রানজিটের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রেললাইনটি। সর্বোপরি রেললাইনের কারণে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব ও কর্মচাঞ্চল্যও অনেক বেড়ে যাবে। 

তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ রেললাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মোংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন।