নির্বাচন ঘিরে কালো মেঘ|113180|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নির্বাচন ঘিরে কালো মেঘ
প্রতীক ইজাজ

নির্বাচন ঘিরে কালো মেঘ

হঠাৎ উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাশকতার আশঙ্কা ও বিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রচার বিমুখতা নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের সংশয় সৃষ্টি করেছে।

মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী নামার পরও পরিস্থিতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। বরং সেনাবাহিনী নামার প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ, নির্বাচনী প্রচারগাড়ি-ক্যাম্প ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর এসেছে। গতকাল মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনুরূপ তথ্য পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।  

বিএনপি-জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে সব নির্বাচনী কর্মকা- বন্ধ রেখে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল তিনি এ ব্যাপারে সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাতে বলেছেন। ক্ষমতাসীনদের দাবি, বিএনপি ভরাডুবির আশঙ্কায় ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছে। তারা চাইছে না নির্বাচন হোক। এ জন্য বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা নিজেরাই নানা সংঘাতের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। 

এদিকে সহিংসতা করতে ভোটের মাঠে দেড়শ কোটি টাকা ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি র‌্যাবের। গতকাল মঙ্গলবার র‌্যাব রাজধানীর মতিঝিল থেকে নগদ সাড়ে আট কোটি টাকা ও ১০ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এসব অর্থ দিয়ে একটি চক্র আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়।

অন্যদিকে বিএনপি ইসি, পুলিশসহ প্রশাসনকে সরকারের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ আনছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন প্রার্থীরা ধানের শীষের প্রার্থীদের মাঠেই নামতে দিচ্ছে না। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী নেই এমন অন্তত ১০টি আসনে ভোট পেছানোর দাবি করেছেন তারা।   

গতকালও ভোটের মাঠে তেমনভাবে দেখা যায়নি ধানের শীষের প্রার্থীদের। ঢাকা, সাতক্ষীরা ও চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা নিজ নিজ বাসায় পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন। এই প্রথম এরশাদ দেশের বাইরে থাকায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও ভোটের মাঠে উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। ফলে গতকালও মাঠ সরগরম ছিল কেবল নৌকার প্রার্থীদের প্রচার কাজে। নৌকার পোস্টারে এখনো সয়লাব গোটা দেশ।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা আছে কি নাÑ জানতে চাইলে এক নির্বাচন কমিশনার এবং আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দেশ রূপান্তরের কাছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন হবে। ভালোভাবেই হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে শক্ত অবস্থানে আছে। তাদের প্রস্তুতিও ভালো। সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে। আমরাও আমাদের প্রার্থীদের মাঠে থেকে সহিংসতা এড়িয়ে প্রচার কাজ চালিয়ে যেতে বলেছি। সুতরাং তারা (বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট) হাজার চেষ্টা করলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে পারবে না। নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। একটি পক্ষ অহেতুক নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে। অথচ দলে দলে বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। কারণ তারাও বিএনপির মিথ্যা রাজনীতি বুঝতে পেরেছে। সুতরাং বিএনপির খেলা শেষ। নির্বাচন হবেই।

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে পরিবেশ ও পরিস্থিতি, সেটা কিন্তু নির্বাচন নিশ্চিতের দিকে যাচ্ছে না। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ দেখছি না। এ সংকট কীভাবে কাটানো যাবে, তাও বুঝছি না। দেখা যাক কী হয়।

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম অবশ্য নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা প্রস্তুত। মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে। ইসিতে আসা অভিযোগগুলো আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থাও নিচ্ছি। সুতরাং নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা দেখছি না। আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হবে। তবে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সে সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের। তবে এটা ঠিক যে, আমরা সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচনে থাকার।