ড. কামাল-সিইসি তুমুল বিতন্ডা|113197|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ড. কামাল-সিইসি তুমুল বিতন্ডা
বিশেষ প্রতিনিধি

ড. কামাল-সিইসি তুমুল বিতন্ডা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত বৈঠক শেষ না করেই বেরিয়ে যায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ দেখতে চাইলে রেগে যান ড. কামাল। সিইসিকে উদ্দেশ করে ‘আপনি আমাদের বিশ^াস করতে পারছেন না’ বলে মন্তব্য করেন কামাল। এমনকি এ সময় ড. কামাল পুলিশকে ‘জানোয়ার লাঠিয়াল বাহিনী’ বলেও মন্তব্য করেন। তখনই ক্ষুব্ধ হন সিইসি। এ সময় তিনিও ড. কামালের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি নিজেকে কী মনে করেন?’ এরই এক পর্যায়ে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘অবজ্ঞা’ করেছেন দাবি করে বৈঠক বর্জন করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

গতকাল রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দুপুর ১২টায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকের শুরুতেই ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় ড. কামাল হোসেন পুলিশের গ্রেপ্তার-হয়রানির বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করেন। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় পুলিশি নির্যাতনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জবাবে সিইসি ড. কামালের কাছে জানতে চান, কোথায় নির্যাতন হচ্ছে দেখান। চলেন আমাকে নিয়ে যান সেখানে। এর জবাবে কামাল হোসেন বলেছেনÑআমাদের লোকজন আইসিইউতে, মারধর করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। সিইসি বলেছেন, পুলিশ এত খারাপ নয়; আপনাদের কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়; আপনি দেখান। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষেপে যান ড. কামাল। তিনি সিইসিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আমাদের কথা বিশ্বাস করছেন না। এটা অপমানজনক। এরপরই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে সভা বর্জন করে বের হয়ে যান ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

এর পরের অংশের বর্ণনা দিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, এ সময় ড. কামাল সিইসিকে উদ্দেশ করে বলেন, সিইসি বর্তমানে প্রধান বিচারপতির চেয়েও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনি ইচ্ছা করলে ‘জানোয়ার লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী’কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আপনার এই ‘লাঠিয়াল’ পুলিশ বাহিনী আমাদের মিটিং-মিছিল কিছুই করতে দিচ্ছে না। এমনকি দুপুর ২টার পর মাইক ব্যবহারের জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের লোকজন নিয়মকানুন না মেনে পুলিশের সহায়তায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গু-া বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করছে। তাদের রক্ষা করতে হবে।

এ সময় সিইসি ক্ষুব্ধ হয়ে ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি নিজেকে কী মনে করেন। আপনি এমন কী হয়েছেন যে, পুলিশকে ‘লাঠিয়াল, জানোয়ার’ বলছেন। এ সময় অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও রফিকুল ইসলাম চুপ ছিলেন।

এরপর বিএনপি নেতা মঈন খান সিইসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নির্বাচনের কোনো পরিবেশ যদি সৃষ্টি করতে না পারেন, তাহলে বলে দেন, আমরা আজই প্রেস ক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের বিষয়ে ঘোষণা দেব।’

পরে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিইসির ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সভা বর্জন করেন। তবে কমিশনের কেউ তাদের সভা বর্জন না করার অনুরোধ জানাননি বলেও জানা গেছে।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, সিইসি আমাদের কোনো কথাই শোনেননি। আমরা সারা দেশে পুলিশের হাতে ধরপাকড়, হয়রানির বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছি, তিনি তা শোনেননি। তিনি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছেন। তবে বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি বৈঠকে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনাররা। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন ছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।