রোদ্দুরে লীন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী|113207|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
রোদ্দুরে লীন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
রূপান্তর ডেস্ক

রোদ্দুরে লীন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

‘আমরা কেউ মাস্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল/অমলকান্তি সেসব কিছু হতে চায়নি/ সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।’ এমন অজস্র পঙ্ক্তি আর কবিতার পৃথিবী ছেড়েছেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভূত আধুনিক বাংলা কবিদের অন্যতম।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন নীরেন্দ্রনাথ। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গত সোমবার সকালে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক টুইট বার্তা তিনি লেখেন, ‘কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণে আমি শোকাহত। এটা আমাদের সবার জন্য একটি বড় ক্ষতি। বাংলা সাহিত্যে উনার অসামান্য অবদান উনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।’

কবি নীরেন্দ্রনাথ ছিলেন একাধারে ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার, গোয়েন্দা-গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, ভ্রমণ-কাহিনীর  লেখক, সম্পাদক। ১৯৫৪ সালে প্রকাশ হয় তার প্রথম কবিতার বই ‘নীল নির্জন’। এরপর ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’ ও ‘আজ সকালে’। তবে ‘অমলকান্তি  রোদ্দুর হতে  চেয়েছিল’ বা ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়’ শীর্ষক পঙ্ক্তিমালা বাঙালি কবিতাপিপাসুদের পিপাসা মিটিয়ে আসছে। ১৯৫৮ সালে ‘উলঙ্গ রাজা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য উল্টোরথ পুরস্কার পান। ১৯৭০ সালে পান তারাশঙ্কর-স্মৃতি সম্মাননা। ১৯৭৪ সালে পান সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। ১৯৭৬ সালে আনন্দ শিরমণি সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট সম্মানে সম্মানিত করে।

১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুরে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্ম। ১৯৩০ সালের দিকে তিনি কলকাতায় পাড়ি জমান। পড়াশোনা করেন মিত্র ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবাসী ও  সেন্ট পলস কলেজে। সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অনেক দিন।