‘টপ সিক্সটিন’ নিয়ে তৎপর পুলিশ|113301|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
‘টপ সিক্সটিন’ নিয়ে তৎপর পুলিশ
ঋত্বিক নয়ন

‘টপ সিক্সটিন’ নিয়ে তৎপর পুলিশ

দুদিন পরেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট। নানা সহিংসতার কারণে ক্রমেই ভোটকে ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা। চট্টগ্রাম নগরীতে শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ঘিরেও সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। ‘টপ সিক্সটিন’ খ্যাত বন্দরনগরীর ১৬ শীর্ষ সন্ত্রাসী ভোটকে ঘিরে নানা অপতৎরতা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় তাদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন জেলে থাকলেও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর প্রশাসন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীতে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে যেমন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িতদের নাম আছে, তেমনি নাম রয়েছে পেশাদার অপরাধীদের, যারা ‘ভাড়াটে’ হিসেবে নির্বাচনের আগে-পরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। নগরীর বিভিন্ন থানার ওসিরা জানান, সন্ত্রাসী তালিকার মধ্যে ‘নগরীর ত্রাস’ হিসেবে ১৬ জনের ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নগরীর ডবলমুরিং থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রায়ই নিজ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। কখনো তারা সরাসরি অংশ নেয়, কখনো অনুসারীদের দিয়ে এলাকাবাসীকে অস্থির করে তুলছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার থানা এলাকায় টপ সিক্সটিনের একজন শিবির ক্যাডার সোহেল। দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের বাইরে থেকে তার অনুসারীদের দিয়ে এলাকাকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। এখন সংবাদ আছে, সে চট্টগ্রামে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা আছে, যার মধ্যে ১২টিতেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমরা অভিযান চালাচ্ছি, আশা করি ধরা পড়বে।’

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ। আলোচিত ১৬ জনের মধ্যে তার থানা এলাকায় অমিত মুহুরীকে ‘ত্রাস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অমিত বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত আছে। সে নিজেও যে কোনো সময় বের হতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

পাহাড়তলী থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘এই এলাকায় ত্রাস হিসেবে আছে কুইন্টাল রোজারিও। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সে। এক সময় পাহাড়তলীর শীর্ষ সন্ত্রাসী রহমতউল্লাহ চৌধুরী ডনের অনুসারী হিসেবে তাকে চিনত মানুষ। এখন সে নিজেই মূর্তিমান আতঙ্ক।’

সদরঘাট থানার ওসি নেজামউদ্দিন জানান, তার থানা এলাকায় রয়েছে কদমতলীতে হারুণ হত্যা মামলার আসামি মো. আলমগীর। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে গুলি করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন সে কদমতলীতে ব্রোকারদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তার কাছে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে।’

চকবাজার থানা এলাকার ত্রাস যুবলীগকর্মী ফয়সাল। চকবাজার ডিসি রোড, বাকলিয়া এলাকায় ফয়সালের ভয়ে কেউ ‘টুঁ’ শব্দ করতে পারে না। ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত ২৭ এপ্রিল যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম ওরফে ক্যাডার ফরিদের সঙ্গে চলে আধিপত্য ও শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। ওইদিন বিকালে কথা কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে শিষ্য ফয়সালের গুলিতে নিহত হয় ক্যাডার ফরিদ। খুলশী থানার শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মাসুদ কামাল ওরফে ‘কিলার মাসুদ’। কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা থেকে ৪ ডিসেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক বলেন, তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। বাকলিয়া থানার ত্রাস কিরিচ বাবুল। বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জানান, ১০ ডিসেম্বর মোস্তফাবাগ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫টি মামলার আসামি দিদারুল হক কাজেমী প্রকাশ ওরফে কিরিচ বাবুলকে (৫৮) গ্রেপ্তার করা হয়।