বিপলুর ভুলে শিরোপা বসুন্ধরার|113373|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বিপলুর ভুলে শিরোপা বসুন্ধরার
সুদীপ্ত আনন্দ

বিপলুর ভুলে শিরোপা বসুন্ধরার

বিপলু আহমেদের মনে যে তোলপাড় শুরু হলো তা কি সহজে থামবে? নিজেকেই হয়তো ক্ষমা করতে পারবেন না এই তরুণ উইঙ্গার। তার এক ভুলেই দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা কাপের শিরোপা জেতা হলো না শেখ রাসেলের। গতকালের ফাইনালে ওই অমার্জনীয় ভুলের সুযোগে বসুন্ধরা কিংসকে প্রথম শিরোপা এনে দিলেন আরেক তরুণ মতিন মিয়া। এই স্ট্রাইকারের অতিরিক্ত সময়ের গোলে বসুন্ধরা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। তাতে কিছুটা হলেও ঘুচেছে মাসখানেক আগে ক্লাবটির ফেডারেশন কাপ জিততে না পারার আক্ষেপ।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। ১৭ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মার্কোস ভিনিসিয়াস এগিয়ে নেন বসুন্ধরাকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাসেলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল ওদোইনের গোলে আসে সমতা। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সতর্ক থাকায় গোল হয়নি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ‘সুপার সাব’ মতিনের গোলে বসুন্ধরার নাম উঠে যায় ‘চ্যাম্পিয়ন্স’ তালিকায়। অষ্টম দল হিসেবে মর্যাদার এই শিরোপা জিতে নেয় দলটি। আর এই হারে দীর্ঘায়িত হয় রাসেলের শিরোপা ক্ষুধা। ২০১৩ সালে ট্রেবল জয়ের পর আর কোনো ঘরোয়া শিরোপা জেতেনি দলটি।

আগের দিন ফাইনাল-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ম্যাচের ‘ছন্দ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দু’দলের পৃষ্ঠপোষণায় একটি শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। তবে কি ম্যাচের ফলটাও হবে কর্তাদের ইচ্ছেমতো? এমন প্রশ্ন রাসেল কোচ সাইফুল বারীর মোটেই পছন্দ হয়নি। সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিরোপা যে জিতবে, তাকে তা আদায় করেই জিততে হবে। অভিজ্ঞ এই কোচের কথায় ছিল ঝাঁজ। ছিল পারদ চড়ানো একটি ফাইনালের প্রতিশ্রুতি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হয়তো উত্তেজনার পারদ ততটা চড়েনি। তবে চেষ্টার কমতি ছিল না কোনো দলের। কিন্তু বড় ম্যাচে দুয়েকটি ভুলে দিতে হয় চড়া মাশুল। সেটাই হয়েছে রাসেলের ক্ষেত্রে।

ম্যাচ শুরুর অষ্টম মিনিটে রাসেলের ডিফেন্ডার আরিফুল ইসলামের কাট ব্যাকে রাফায়েলের প্লেসিং বাইরের বার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ১৭ মিনিটে ভিনিসিয়াস তার জাত চিনিয়েছেন তাক লাগানো গোলে। এই ব্রাজিলিয়ান ইমন বাবুর কাছ থেকে বল পেয়ে রাসেলের এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সের ২৫ গজ বাইরে থেকে যে শট নেন তার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না রাসেল গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানার। ২৯ মিনিটে রাফায়েল বসুন্ধরা ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিনকে কাটিয়ে শট নিয়েছিলেন কিন্তু বসুন্ধরা কিংস গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো বাম দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দিয়েছেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে যেন ভিনিসিয়াসের গোলটিরই জবাব দিলেন রাফায়েল। বক্সের প্রায় ২৫ গজ বাইরে থেকে তার ডান পায়ের জোরালো শট খুঁজে নেয় জালের ঠিকানা। বিরতির আগেই স্বস্তি ফেরে রাসেল শিবিরে।

দ্বিতীয়ার্ধে রাসেল কোচ সাইফুল বারী প্রতিআক্রমণনির্ভর পরিকল্পনা সাজিয়ে সফল হয়েছেন। বসুন্ধরার ‘বিশ্বকাপ তারকা’ দানিয়েল কলিনদ্রেসকে বলতে গেলে বোতলবন্দি করে রাখে রাসেলের জমাট রক্ষণভাগ। এই কোস্টারিকান যেমন সুবিধা করতে পারেননি, অন্যরাও সেভাবে খুলতে পারেননি রাসেলের রক্ষণমুখ। উল্টো ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন রাফায়েল। ৬৭ মিনিটে সতীর্থের লম্বা বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে যে শট নেন তা ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ফেরে। ১০ মিনিট বাদে আলেক্স দা সিলভার স্কয়ার পাসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার।

অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে ঘটে বিপলুর সেই ‘মহা’ ভুলের ঘটনা। নিরীহ একটি বল পেয়ে তা সঙ্গে সঙ্গে ক্লিয়ার করেননি এই উইঙ্গার। সুযোগটা কাজে লাগান দ্বিতীয়ার্ধে সাদ্দাম হোসেন অ্যানির জায়গায় খেলতে নামা মতিন মিয়া। ছোঁ মেরে বলটা কেড়ে নিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে জালে জড়িয়ে বসুন্ধরাকে শিরোপার রঙে রাঙান এই তরুণ স্ট্রাইকার।

আর তার কীর্তিতে প্রথম শিরোপা জিতে বসুন্ধরা নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।