দ্বিধাবিভক্ত ঐক্যফ্রন্ট|113386|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
দ্বিধাবিভক্ত ঐক্যফ্রন্ট
উম্মুল ওয়ারা সুইটি

দ্বিধাবিভক্ত ঐক্যফ্রন্ট

ফাইল ছবি

-বিএনপির এক অংশ নির্বাচন বর্জনের পক্ষে
-নির্বাচনের পক্ষে অনড় ড. কামাল
-আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি প্রচার কাজে মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় কাটেনি। ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির একটি অংশ এবং তৃণমূলের নেতারা চায় বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসুক। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন  গণফোরাম অনড়। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকেও নেতাদের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক করার কথা। সেই বৈঠকেই নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবারের বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের দল বিএনপিকে স্পষ্টই বলে দিয়েছে, যতই মামলা-হামলা হোক শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে হবে। বিএনপি যদি একক কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে গণফোরাম নির্বাচনে থাকবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকে বলেছেন, মওদুদ আহমদ নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জেলা থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বৈঠক চলাকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় ফোন করে বলেছেন, তার ওপর হামলা হয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়াই ভালো। কিন্তু ফখরুলের এই দাবি নাকচ করে ড.  কামাল বলেন, যত নির্যাতন হোক নির্বাচন থেকে সরে আসা যাবে না। এ সময় বিএনপির সদস্যরা দেশব্যাপী তাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং প্রচারে বাধা দেওয়ার কথা বলেন। তবুও ড. কামাল বলেন, ভোটের দিন চিত্র অন্যরকম হবে। ঐক্যফ্রন্ট অনেক সিটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে। এ সময় ফখরুল ও বিএনপির সদস্যরা বলেন, ভোটারদেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কেন্দ্রেই তো আমাদের ভোটার আসবে না। এ সময় বিএনপি দেশব্যাপী বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরে। ড. কামাল জানান, বৃহস্পতিবার আলোচনা হবে। 

এদিকে জোটের একটি পক্ষ নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাইছে এমন সন্দেহ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও গণভবনে সিনিয়র নেতাদের এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘মাঠের অবস্থা বিএনপি জানে। তাই তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অসিলা খুঁজছে। ভীরু কাপুরুষের দল বিএনপি। আমরা সতর্ক আছি চাইলেই তারা কোনো নাশকতা করতে পারবে না।’

মঙ্গলবারের বৈঠকের বাগ্বিত-া নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন ফ্রন্ট ও বিএনপি নেতারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার বৈঠকে অংশ নেওয়া ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির একজন সিনিয়র নেতা জানান, আজ বৃহস্পতিবারের শীর্ষনেতাদের বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না উপস্থিত ছিলেন না।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ কম এবং সহিংসতা বাড়ার কারণেই বিএনপি এরকম দাবি তুলেছে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে থাকবে এবং নির্বাচন করার জন্যই মাঠে আছে।

ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে সবাই মিলে আমাদের সিদ্ধান্ত  জানাব। তবে এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনে আছি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দেশ রূপান্তরকে বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বাসায় থাকতে পারছে না। তাই বার্তা আসছে নির্বাচন বর্জন করার। প্রার্থীদের ওপর, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চলছে, তাতে পরিষ্কার নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তিনি বলেন, তারপরও আমরা নির্বাচনে আছি। শেষ পর্যন্ত থাকব, এমনই প্রত্যাশা। এখন সরকার পক্ষের ওপর সব নির্ভর করছে।

ড. কামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে কাউকে মাঠ খালি করে দেওয়ার পক্ষে আমি নেই। বিএনপির নির্বাচন বর্জনের দাবি তোলা খুবই স্বাভাবিক। কারণ নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করছে। আমি মনে করি ভোটকেন্দ্রে যদি ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেতে পারে তবে অবশ্যই আমরা বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব। তিনি বলেন, মামলা হামলায় জর্জরিত হয়েই বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসার কথা বলছে বারবার।