ভোটে, সংসদে দুর্বল বিএনপি চায় আওয়ামী লীগ|113392|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভোটে, সংসদে দুর্বল বিএনপি চায় আওয়ামী লীগ
পাভেল হায়দার চৌধুরী

ভোটে, সংসদে দুর্বল বিএনপি চায় আওয়ামী লীগ

ভোটের মাঠে বিএনপিকে দুর্বল দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। মাঠে দুর্বল বিএনপিতে কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারবে মনে করে ক্ষমতাসীনরা। আর মাঠে দুর্বল রাখা গেলে নির্বাচনকে ঘিরে তাদের কথিত নাশকতা-সহিংসতার মিশনও ব্যর্থ হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি ভোটে থাকুক যেমন চায় আওয়ামী লীগ, তেমনি তাদের সংসদেও চায়।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও বিএনপিকে এবার সংসদে দেখতে চান। তবে শক্তিশালী বিএনপিকে সংসদে দেখতে চায় না আওয়ামী লীগ, জানান ওই কেন্দ্রীয় নেতারা। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, বিএনপি সংসদে ফিরলে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য সহজ হয়ে যাবে। বিএনপি সরে দাঁড়ালে নির্বাচন হয়ে যাবে, কিন্তু দেশি-বিদেশি নানা মহলের সমালোচনা শুনতে হবে আওয়ামী লীগকে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, বিএনপি নির্বাচনে থাকলে বিদেশিদের চাপও এড়িয়ে যাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাকে অনেকখানি নির্বিঘœ করে তুলবে বিএনপির ভোটে থাকা এবং সংসদে ফেরা। এর ফলে নির্বাচন নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা সংশয় কেটে যাবে।          

আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, আমাদের নেত্রীই (শেখ হাসিনা) চান বিএনপি সংসদে আসুক। ভোটে থাকুক। কারণ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। তবে দুর্বল বিএনপি চান কি নাÑএই প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপির জনসমর্থনই ঠিক করবে বিএনপি সবল না দুর্বল থাকবে। এদিকে, বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীদের  ওপর হামলার ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ ঘটনায় সুফল দেখছে আওয়ামী লীগ। তারা মনে করে, এসব হামলার ঘটনায় বিএনপির ভেতরে ভীতি ঢোকানো গেলে নির্বাচনী মাঠে তাদের উপস্থিতি দুর্বল করে তুলবে। এতে সুফল আসবে আওয়ামী লীগের ঘরে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, এসব ঘটনায় বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও নেতারা ভয়ভীতি পেলে ভোটের মাঠে তাদের উপস্থিতি কম থাকবে। ফলে সহিংসতা কম হবে। এই সুবিধা আওয়ামী লীগের পক্ষেই যাবে। কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, হামলাকে আমরা সমর্থন করছি না, তবে তাদের ওপর হামলা প্রতিরোধ করতে তো আমরা যেতে পারব না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্পাদকম-লীর দুজন নেতা বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল আওয়ামী লীগের আছে। এই কৌশল কোনোভাবেই ভোটের মাঠ থেকে আউট করার কৌশল নয়। ওই দুই নেতা বলেন, অবশ্য এখন বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলেও প্রার্থী তাদের থেকেই যাবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির প্রচারে হামলার ঘটনা আমরা সমর্থন করি না। আমরা মনে করি, এটা তাদের ষড়যন্ত্র নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। হানিফ বলেন, বিএনপি নির্বাচনে থাকলে আওয়ামী লীগেরই লাভ বেশি। আমরা কেন তাদের নির্বাচন থেকে সরাব। তিনি বলেন, হামলা হলে নিশ্চয়ই তারা প্রতিরোধ করবে, তাদের ওপর হামলা ঠেকানোর প্রতিবাদ তো আমরা করে দিতে পারি না।

দলের সভাপতিম-লীর অপর সদস্য ফারুক খান বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জনগণই নির্ধারণ করবে বিএনপি দুর্বল না সবল। তবে আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে থাকুক, সংসদে আসুক।