ড. কামালকে পুলিশি নিরাপত্তার প্রস্তাব|113396|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ড. কামালকে পুলিশি নিরাপত্তার প্রস্তাব
‘ওই অর্থে জানোয়ার বলিনি’
নিজস্ব প্রতিবেদক

ড. কামালকে পুলিশি নিরাপত্তার প্রস্তাব

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিষয়টি ড. কামালকে জানাতে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার মতিঝিলের আইনি চেম্বারে যাওয়ার কথা থাকলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণফোরামের

এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় বলে পুলিশ তাদের জানিয়েছে। আর তাদের টার্গেট ড. কামাল হোসেন। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে পুলিশকে এমন তথ্য জানানোর পর ডিএমপি তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়। দেখা করতে চান ডিএমপি কমিশনার। অন্য কর্মসূচি থাকায় কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া আসতে না পারলেও ফোনে কথা বলেছেন। ফোনে ড. কামালকে বিষয়টি জানানো হয়। তার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকবে বলেও ফোনে ড. কামালকে জানিয়েছেন আছাদুজ্জামান মিয়া। আর এ কারণেই পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও সেখানে যাননি ড. কামাল।

মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুপুরে তিনিসহ মতিঝিল জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা ড. কামালের চেম্বারে গিয়েছিলেন। অন্য কর্মসূচি থাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে ফোনে কথা বলেছেন। গণফোরাম নেতার চেম্বারে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেও অন্য একটি প্রোগ্রামের কারণে যেতে পারেননি বলে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

নোমান আরো বলেন, ড. কামালের ব্যক্তিগত চেম্বার তাদের এলাকায়। তাই তার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালের জন্যই নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া পুলিশ কমিশনার ফোন করেও হাই-হ্যালো করেছেন তার সঙ্গে। তবে আর কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে জানেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ড. কামাল হোসেন পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার জের ধরেই পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের আরেক পক্ষের আপত্তির কারণে তিনি সেখানে যাননি।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মতিঝিল জোনের উপকমিশনার আনোয়ার হোসেন, রমনা জোনের উপকমিশনার কামরুজ্জামান, মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার শিবলী নোমান ও ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. কামালের ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে দেখা করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ওই অর্থে জানোয়ার বলিনিÑ ড. কামাল : পুলিশ সদস্যরা চলে যাওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের ড. কামাল বলেন, ওই অর্থে তো বলিনি। তারা মানুষ হিসেবে ভূমিকা রাখবে, জনগণ সেটা আশা করে।

‘পুলিশ কেন এসেছিল?’ সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ এসেছিল কারণ তারা আমার নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তারা জানতে চেয়েছেন, যদি আপনার নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়, সেটা আমাদের জানালে সেভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব। আপনি বাড়িতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে সেই নিরাপত্তাও আমরা দিতে পারি।’

ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে ফোনে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, তারও আসার কথা ছিল।’

‘আসন্ন সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি’Ñএমন এক প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল বলেন, ‘আশঙ্কা তো অবশ্যই হচ্ছে। কারণ, সারা দেশে ধরপাকড় চলছে। জেলায় জেলায় ফোন করে বলা হচ্ছে, প্রার্থীদের ওপর হামলা ও আটক করা হচ্ছে। এটা অস্বাভাবিকভাবে হচ্ছে।’

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার আশা দেখছেন কি না জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, ‘আশা তো আমরা সব সময়ই করব। কিন্তু আশঙ্কাও আছে। কারণ, যেভাবে হামলা ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

‘কারচুপি হলে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট থাকবে কি না? ’-এমন এক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার কথা ধরে রাখতে হবে। ওরা যেন না বলতে পারে সরে গেছে। এটা আমাদের অধিকার। আমাদের অধিকার থেকে কেন আমরা সরে যাব। যদি শেষ পর্যন্ত অসম্ভব করে দেয় তখন মানুষজন দেখবে, তারা অসম্ভব করে দিয়েছে।’

নির্বাচনের ফলাফল ঐক্যফ্রন্ট মানবে কি না?’ জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘পরিস্থিতি দেখে এর উত্তর দেওয়া যেতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠককালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পুলিশকে জানোয়ার বলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।