কৌতূহল রেখে ফিরলেন এরশাদ|113401|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
কৌতূহল রেখে ফিরলেন এরশাদ
প্রতীক ইজাজ

কৌতূহল রেখে ফিরলেন এরশাদ

ফেরা না ফেরার দোলাচলের অবসান ঘটিয়ে গতকাল বুধবার রাতে দেশে ফিরেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। রাত ৯টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে সোজা বারিধারায় নিজের বাসায় চলে যান তিনি। নির্বাচন নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এখন কী করবেন, তা দলীয় নেতাকর্মীরা ঠিক বলতে পারছেন না। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী রাত ১০টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্যার বাসায় বিশ্রামে আছেন। আগামীকাল (আজ) তার সঙ্গে দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর দলের কর্মসূচি ঠিক করা হবে।’

দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছেন তাদের চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও ব্যক্তিগত সহকারী মঞ্জুরুল ইসলামও ফিরেছেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত দু’বার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ও দু’বার সিঙ্গাপুরে গেছেন এরশাদ। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দিনে তিনি পাড়ি দেন সিঙ্গাপুরে। তার অনুপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা না থাকায় দলে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ভোটের মাঠের অবস্থা নাজুক। কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে দলীয় প্রার্থীরা ঠিক কী করবেন বুঝতে পারছেন না। দলের শীর্ষ কয়েকজন বাদে তেমনভাবে কাউকে দেখা যাচ্ছে না প্রচারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক বছর ধরে এরশাদ বলে আসছেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এসে গেছি, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনই আমার শেষ নির্বাচন। এই নির্বাচনে লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই। সরকার গঠনই আমার জীবনের শেষ প্রত্যাশা। বিরোধী দলে নয়, সরকার গঠনই আমার জীবনের শেষ স্বপ্ন।’

দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যার না থাকায় কিছুটা সমস্যা তো হয়েছেই। আমরা নিজেরাও নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তবে সাধ্য অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি চেয়ারম্যান স্যার ঠিকমতো ভোটের মাঠে নামতে পারলে আমরা নির্বাচনে ভালো করব।’

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের নেতারা এরশাদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, জীবনের শেষ নির্বাচনের কথা বলে তফসিলের আগে ভোটের মাঠে চষে বেড়ান জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সভা-সমাবেশ করেছেন। মনোনয়নের টোপ দিয়ে প্রকাশ্য ও গোপনে দলে ভিড়িয়েছেন অনেক বিত্তশালীকে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত অর্ধশতাধিক দল নিয়ে রাজনৈতিক জোট গঠন করে চমকও দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু তফসিল ঘোষণার সময় থেকেই হঠাৎ করে বদলে যান তিনি। নানা নাটক শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির এমন কঠিন অবস্থা ও বিপর্যয় দেখে দলের নেতাকর্মীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। প্রার্থী হয়েও মাঠে সক্রিয় নেই অনেক নেতা। তাদের বক্তব্য, কী হবে নির্বাচন করে। নির্বাচনের পুরো সময়টা চেয়ারম্যান কাটালেন দেশের হাসপাতালে ও বিদেশে।

এই প্রেক্ষাপটে সাবেক হুইপ শওকত চৌধুরী ও দলীয় প্রার্থী আমির হোসেনসহ অন্তত পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে পড়েছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঝালকাঠি-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএ কুদ্দুস আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমির হোসেন আমুকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে যান। জাতীয় পার্টি ও দলের চেয়ারম্যানের ভবিষ্যৎ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এরশাদ সিঙ্গাপুরে থাকার সময় দল নেতৃত্বশূন্য ছিল। এ সময় দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ তার নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের লালমনিরহাট, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা রংপুর ও সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রামে ব্যস্ত ছিলেন নিজ নিজ নির্বাচনী প্রচারে। এরশাদের অনুপস্থিতিতে যাকে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই সদ্যবিদায়ী মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ব্যস্ত স্ত্রীর নির্বাচন নিয়ে। তার দেখা পাচ্ছেন না দলের নেতাকর্মীরা। ফলে দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় জাপার কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

গত ৩ নভেম্বরের পর দলের পক্ষ থেকে আর কোনো নির্বাচনী কর্মসূচিও নেওয়া হয়নি। ওইদিন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল উচ্চবিদ্যালয়-কলেজ মাঠে জনসভায় লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন এরশাদ। এরপর জাপা থেকে আর কোনো জনসভা করা হয়নি কিংবা এরশাদ জনসম্মুখেও আসেননি। দলের নির্বাচনী সেলের পরিকল্পনা অনুযায়ীÑ দলের দুর্গখ্যাত রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী জনসভা করার কথা ছিল। এরশাদের নির্দেশনার অভাবে ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারের বিশাল কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন পুরোটাই থমকে আছে।