ভোলায় প্রচার আ.লীগ মাঠে বিএনপি ‘ঘরে’|113410|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভোলায় প্রচার আ.লীগ মাঠে বিএনপি ‘ঘরে’
হোসাইন সাদী, ভোলা

ভোলায় প্রচার আ.লীগ মাঠে বিএনপি ‘ঘরে’

আগামী রোববার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার চার আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তবে হামলা, গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রচারে নামতে না পারার অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থীরা। জেলার চার আসনের প্রার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ভোলা-১ (সদর) : এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রাম। অপরদিকে নামমাত্র প্রচারে আছেন বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, নৌকার কর্মীদের বাধায় মাঠে নামতে পারছেন না তারা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তার ২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিএনপি কর্মীরা নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিলে গভীর রাতে নৌকার কর্মীরা তাদের বাসাবাড়িতে হামলা করছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ না নিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর মিথ্যাচার করছে। আমরা কাউকে বাধা দিচ্ছি না। তারা নিজেরাই মাঠে নামছে না।’

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) : আসনটিতে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান সাংসদ আলী আজম মুকুল। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম সাধারণ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। লোকলজ্জায় এখন তারা জনগণের কাছে যেতে পারছেন না।’

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর হাফিজ এলাকায় এসে বাড়িতে অবস্থান নেন। এরপর থেকে তাকে আর বের হতে দেখেনি কেউ। নির্বাচনী এলাকার কোথাও তার পোস্টার দেখা যায়নি।

হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা বাসা ঘিরে রেখেছে। কোনো নেতাকর্মী বাসায় এলে তাকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে। প্রচারে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করছে না পুলিশ। এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ২৪টি লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন-লালমোহন) : উন্নয়ন আর সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। প্রচার নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০১-এর নির্যাতনের হিসাব চাইছে সাধারণ মানুষ। তাই জনরোষের ভয়ে ভীত হয়ে মাঠে নামছেন না বিএনপি প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন।’

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। কয়েক দফা প্রচারে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরে ফিরে আসি। অস্ত্রের মহড়া, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। ভয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে সাহস পাচ্ছে না। অবস্থার পরিবর্তন না হলে আবার অর্থহীন একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) : দেশের সর্বদক্ষিণের এ আসনে উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এলাকায় এসেই বিএনপি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলম কয়েক দফা হামলার শিকার হন।

নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, এলাকায় আসতেই তার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকর্মীরা। প্রচারে নামলে তার গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। হামলা হচ্ছে নেতাকর্মীদের ওপর। বিএনপি কর্মীদের জোরপূর্বক আওয়ামী লীগে যোগদান করানোর অভিযোগও করেন তিনি।

এ নিয়ে চরফ্যাশন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ শুভ্র বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থী তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়েছেন। এসব হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয়।’

বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকী বলেন, বিএনপি প্রার্থীদের প্রতিটি অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচার চালাতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।