লেকের পানিতে শীতের পাখি|113440|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৫২
লেকের পানিতে শীতের পাখি
সাহাদাত পারভেজ

লেকের পানিতে শীতের পাখি

শীতের শুরু হলেই দূরদিগন্ত থেকে উড়ে আসে অনেক অতিথি পাখি। উত্তরের হিমেল বাতাসে ভর করে ওরা ভিড় জমায় দেশের জলাশয়ে। এসব অতিথি পাখি হাজার হাজার মাইল দূরের পথ উড়ে আমাদের দেশে আসে তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাঁচার জন্য। আসে দূর সাইবেরিযা, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, হিমালয়ের পাদদেশ, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে। আসতে শুরু করে নভেম্বর মাসে থাকে এপ্রিল অবধি। এসব পাখির দেখা মেলে ঢাকার সিরামিক লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন লেক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কমবেশি ২২টির মতো জলাশয় আছে। এর মধ্যে পাখির আনাগোনা বেশি ট্রান্সপোর্ট এলাকার সামনে ও পেছনের দুটি জলাশয়ে। এছাড়া জাহানারা ইমাম হল, প্রীতিলতা হল এবং আল বেরুনী হল সংলগ্ন জলাশয়ে পাখি দেখতে পাবেন। ক্যাম্পাসের জলাশয়ে হাঁসপাখি ‘পাতি সরালি’র প্রাধান্যই বেশি। এছাড়া মাঝে মাঝে দেখা মিলবে ছোট পানকৌড়ি, ধলাবুক ডাহুক, জলপিপি কিংবা পাতি পানমুরগির। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাশয়গুলোতে পাখির সংখ্যা ও প্রজাতি সাধারণত বেড়ে থাকে। সকাল ক্যাম্পাসে পাখি দেখার সবচেয়ে ভালো সময়। তাই খুব সকালে যেতে পারলে পাখি দেখতে ভালো লাগবে। এছাড়া সারা দিন কাটাতে পারবেন ক্যাম্পাসে। দুপুরে খেয়ে নিতে পারেন ক্যাম্পাসের বটতলার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়। খুব কম দামে নানা পদের ভর্তা দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেইট, কল্যাণপুর কিংবা গাবতলী থেকে নবীনগর, মানিকগঞ্জগামী যে কোনো বাসে চড়ে সহজেই নেমে যেতে পারবেন ক্যাম্পাসের সামনে। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার জন্য সহজ বাহন রিকশা। বাস ভাড়া লাগবে ২৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

পাখি দেখতে গিয়ে

 বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে থেকে পাখি দেখুন।

 ক্যাম্পাসে নীরবতা বজায় রেখে চলুন।

গাড়ির হর্ন বাজাবেন না। জোড়ে শব্দ বা গান শুনবেন না।

 পাখিরা বিরক্ত হয় এমন কোনো আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

 যেখানে-সেখানে খাবারের প্যাকেট ও কোমল পানীয়ের বোতল ফেলবেন না।

ছবি ও লেখা: আলোকচিত্রী সাহাদাত পারভেজ