নানা আয়োজনে সৈয়দ হকের জন্মোৎসব পালন|113507|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:১৭
নানা আয়োজনে সৈয়দ হকের জন্মোৎসব পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক

নানা আয়োজনে সৈয়দ হকের জন্মোৎসব পালন

লেখকের বাসভবন গুলশানের মঞ্জু বাড়িতে আয়োজন করা হয় ‘সৈয়দ শামসুল হক: ৮৩তম জন্মোৎসব’

মঞ্জু বাড়ির প্রবেশদ্বার পেরিয়েই চোখে পড়ল ফুলে ফুলে ঢেকে যাওয়া কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের প্রতিকৃতি। তার পাশেই সেই চিরচেনা দোলনা। সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কবির একটি স্থিরচিত্র ও তিনটি বই। এই তিনটি বইকে ঘিরেই আয়োজন করা হয় সৈয়দ হকের এবারের জন্মোৎসব। বৃহস্পতিবার ছিল কবি সৈয়দ শামসুল হকের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী। দিনটিকে ঘিরে প্রয়াত এই লেখকের বাসভবন গুলশানের মঞ্জু বাড়িতে আয়োজন করা হয় ‘সৈয়দ শামসুল হক: ৮৩তম জন্মোৎসব’। কবির বন্ধু-স্বজনদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে আবৃত্তি, পাঠ, গান এবং নানা স্মারণিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণিল হয়ে উঠে পুরো আয়োজন। কবিপত্নী আনোয়ারা সৈয়দ হক জানান, প্রতিবারই কবির জন্মদিনে প্রকাশিত হয় তাঁর নতুন বই। এবারের জন্মদিনে তাকে ছাড়াই প্রকাশ হলো তাঁর তিনটি নতুন বই। সদ্য প্রকাশিত তিনটি বই হলো অনূদিত ইবসেন-নাটক পীরচানের পালা (চারুলিপি প্রকাশন), নির্বাচিত গল্পের সংকলন গল্পগাথা (চিত্রা প্রকাশনী) এবং সাহিত্য-কলামের সংকলন জলেশ্বরীর দিনপত্রী (অরিত্র প্রকাশনী)। তিনটি বইয়ের প্রকাশনা আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মফিদুল হক, আবুল হাসনাত, মুহাম্মদ সামাদ, এরোমা দত্ত, আসাদ মান্নান, মুস্তাফিজ শফি, আনিসুল হক, সাজ্জাদ শরিফ, মাহবুব আজিজ’সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ হকের সর্বাধিক নাটকের নির্দেশক মঞ্চসারথী আতাউর রহমান। সঞ্চালনা করেন কবি পিয়াস মজিদ। আলোচনার ফাঁকে চলে গান, আবৃত্তি। সৈয়দ হকের লেখা গান গেয়ে শোনান ঝর্ণা রহমান, কবিতা আবৃত্তি করেন মাহমুদুল হাকিম। সৈয়দ শামসুল হকের ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক পড়ে শোনান তাঁর বাবাকে নিয়ে নিজের লেখা কবিতা ‘নিঃস্ব সন্তানের গান’। তৃতীয়বারের মতো সৈয়দ শামসুল হককে ছাড়াই উদ্‌যাপিত হলো তাঁর জন্মদিন। ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী লেখক।

তাঁর লেখা নাটক, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, গান সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে। সৈয়দ হকের লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘গণনায়ক’, ‘ঈর্ষা’। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পরানের গহীন ভিতর’, নাভিমূলে ভস্মধার’, ‘আমার শহর ঢাকা’,  ‘বৃষ্টি ও জলের কবিতা প্রভৃতি। গান লিখেও খ্যাতি অর্জন করেছেন সৈয়দ হক। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘তোরা দেখ দেখ দেখ রে চাহিয়া’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা’। সৈয়দ হলের লেখা উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে নাসির উদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ শামসুল হক পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। তার বাবার নাম সৈয়দ সিদ্দিক হোসাইন, মা হালিমা খাতুন।