ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ‘ভোট দিলেও যা না দিলেও তা’|113522|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ‘ভোট দিলেও যা না দিলেও তা’
মদিনা জাহান রিমি

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ‘ভোট দিলেও যা না দিলেও তা’

‘ভোট দিলেও দেশের পরিস্থিতি খারাপ হবে, না দিলেও ওই খারাপই থাকবে’Ñ দেশের রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত স্কুলশিক্ষক সুমন্ত কবীর আগামী রোববার ভোট দেওয়া নিয়ে এমন মন্তব্যই করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে দেশ রূপান্তরের কাছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের হতাশা তুলে ধরেন রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করা এই ব্যক্তি। শুধু সুমন্ত নন, এ হতাশা আরো অনেকের মাঝেই। দুদিন পরই ভোটÑ এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সুমন্তকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে বিরোধী দলের ওপর অবিচার হচ্ছে। ভোটের নামে প্রহসন হবে ৩০ তারিখ।’

তিনি কোন দলে ভোট দেবেন? জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি ভোট দিতেই চাই না। ভোট দিলেও দিন দিন দেশের পরিস্থিতি খারাপ হবে, না দিলেও ওই খারাপই থাকবে। রাজনীতিতে যে নৈতিক অবক্ষয় দেখছি এর প্রভাব জনগণের ওপর পড়ছে।’ ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী এলাকায় গেলে কথা হয় রিকশাচালক সুমনের সঙ্গে। বগুড়ার এই স্থায়ী বাসিন্দা বলেন, ‘বিএনপিরে আর গুম করি মারা লাগব না, এরা এমনি হার্ট এটাক করি মরব।’

কাকে ভোট দেবেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি আর কারে দিমু, ধানের শীষেরে দিমু।’ চায়ের দোকানি ফারুক বলেন, ‘নৌকাই জিতব, এত মিছিল করে রাস্তায় জ্যাম করে ফেলার কী দরকার?’ তিনি মনে করেন, বিএনপিকে চাপে রাখা হয়েছে বলে শেষ দিনের প্রচারেও তারা নেই। এর বিপরীত চিত্রও আছে। নিজ আসনে কেমন প্রার্থী চান? জিজ্ঞাসা করলে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেসমা হক বলেন, ‘প্রার্থীর চেয়ে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দল কোনটা। আমার মতে বাংলাদেশকে সুন্দর রাখতে পারবে যে দল তাদের ভোটে জেতাতে হবে। যে দল সব সময় মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করেছে, দেশকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চালিয়ে নেওয়ায় ক্ষমতা রাখে তাদের চায় আমাদের মতো তরুণরা।’

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিখিল দাস বলেন, ‘বিএনপি বাদে যেকোনো দল আসুক।’ এমন মন্তব্যের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমি কোনো দলের পক্ষে নই, কিন্তু বিএনপিকে কখনো ভোট দেব ভাবতেই পারি না।’

কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাইল হোসাইন প্রথম ভোট দেবেন এবার। তিনি বলেন, ‘মূল প্রতিযোগিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের মাঝে। তরুণরা যেদিকে যাবে সেই দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।’

তরুণরা নৌকার প্রার্থীর প্রতি বেশি আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইসমাইল বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্রদের বিএনপির প্রতি একটা আলাদা মনোযোগ আছে। আমাদের হুজুরদের আওয়ামী লীগের প্রতি একটা বিদ্বেষ ছিল। তবে ইমাম ভাতা, কওমিদের মাস্টার্স সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে তারা আওয়ামী লীগের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।’