ঢাকায় বাসাবাড়িতে ব্যাচেলরদের হয়রানি|113603|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ঢাকায় বাসাবাড়িতে ব্যাচেলরদের হয়রানি
রশিদ আল রুহানী

ঢাকায় বাসাবাড়িতে ব্যাচেলরদের হয়রানি

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে বসবাসরত ব্যাচেলরদের বাসা ছাড়তে পুলিশ ও বাড়িওয়ালারা নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ফ্যামিলি বাসায় আগামী তিন দিন কোনো আত্মীয় না আসার জন্যও পুলিশের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীতে বসবাসরত হাজার হাজার কর্মজীবী ব্যাচেলর ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা নেই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট খবর।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, নারিন্দা, লালবাগ, আজিমপুর, ধানমন্ডি, রায়েরবাজার, ফার্মগেট, বাড্ডা, বনশ্রী, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মণিপুরিপাড়া ও মিরপুর এলাকায় বসবাসরত বেশ কয়েকটি মেসবাড়ির মালিক ব্যাচেলরদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ধানমন্ডির একটি মেসে বসবাসরত ‘ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি’র ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বাড়িওয়ালা আমাদেরকে বলেছে, ভোট এসে গেল তোমরা গ্রামে ভোট দিতে যাও। ঢাকায় থাকার দরকার নেই। ঝামেলা হতে পারে। তাই গতকালই চলে এসেছি। বাড়ি থেকেও আম্মু থাকতে নিষেধ করছিল বারবার।’

রাজধানীর আজিমপুরে ছাপরা মসজিদের পাশেই একটি ফ্ল্যাটে থাকেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র। তাদের মধ্যে রুবেল আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে অভিযোগ করেন, ‘আমাদের বাড়ির মালিক আমাদেরকে গ্রামে চলে যাওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। শুনেছি পুলিশ নাকি বাড়ির মালিকের কাছে গিয়ে আমাদের সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। হয়তো মালিক ভয় পেয়েছেন। তাই গতকাল বিকেলেই গ্রামের বাড়িতে চলে আসছি।’ ব্যাচেলরদের বাড়ি ছাড়তে বলার কোনো নির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে লালবাগ থানার ওসি সুভাষ কুমার পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীতে যেন কোনো ধরনের নাশকতা না হয়, সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে থাকে সে কারণে আমরা একটু সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। তবে যারা ভাড়াবাড়িতে থাকেন, ব্যাচেলর তাদের প্রতি একধরনের নজরদারি তো আছেইÑ আর এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ব্যাচেলরদের বাড়ি ছাড়ার কোনো নির্দেশনা নেই।’

এদিকে রাজধানীর বনশ্রীতে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বেসরকারি চাকরিজীবী অভিযোগ করেন, ‘আমি তো আমার ফ্যামিলি নিয়ে থাকি। আত্মীয়স্বজন আসতেই পারে। কিন্তু পুলিশ নাকি বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছে ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন যেন বাড়িতে আত্মীয়স্বজন না আসে। বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক বিরক্ত।’ এ বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি মো. এনামুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা কোনো কথা হলো? আমরা বাড়িওয়ালাদের এমন নির্দেশ দিতে যাব কোন দুঃখে। অতিউৎসাহী কিছু বাড়িওয়ালা নিজ থেকে এমনটা করতে পারে।’