জামায়াতের প্রার্থিতার কথা জানলে ঐক্যফ্রন্ট করতাম না|113609|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
জামায়াতের প্রার্থিতার কথা জানলে ঐক্যফ্রন্ট করতাম না
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতের প্রার্থিতার কথা জানলে ঐক্যফ্রন্ট করতাম না

‘জামায়াত নেতারা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করবে জানলে আমি বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতাম না’ এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গত বুধবার নিজের মতিঝিল আইনি চেম্বারে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ২৩ জন নেতার বিএনপির প্রতীকে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়াটা বোকামি। আমি লিখিত দিয়েছি যে, জামায়াতকে কোনো সমর্থন দেওয়া এবং ধর্ম, মৌলবাদ, চরমপন্থাকে সামনে আনা যাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি জানতাম জামায়াত নেতারা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তাহলে আমি এতে যোগ দিতাম না। কিন্তু ভবিষ্যৎ সরকারে যদি জামায়াত নেতাদের কোনো ভূমিকা থাকে, তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একদিনও থাকব না।’

সরকারবিরোধী মোর্চা গঠনের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েক মাস আগে একদিন আমার চেম্বারে এসেছিলেন। আমাকে একটি মোর্চার নেতৃত্ব দিতে বলেছিলেন। সারা দেশে কী হচ্ছিল সে সম্পর্কে আমি সচেতন ছিলাম। এজন্য আমি মোর্চা গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলাম। এ সময় তিনি সারা দেশে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও বিরোধী দলের ওপর দমনপীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, ‘ভারতকে বিএনপি বলেছে, তারা ভুল ছিল। খালেদা জিয়া যখন ভারত গেলেন, তখন তিনি তাদের এটা বলেছেন। এটা তাদের ভুল উপলব্ধির প্রক্রিয়ার অংশ, খালেদা জিয়া নিজেদের অবস্থান সংশোধন শুরু করেছেন।’

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি, হ্যাঁ বা না বলব না। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো পদ ও বেতন ছাড়াই কাজ করতে আগ্রহী।’

নির্বাচনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ভোটের দিনের অপেক্ষায় আছি। ভোটের দিন একটি মুক্তির দিন। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে তা হবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস। এখন গণতন্ত্র বিপদগ্রস্ত। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হবে।’

দেশের পুলিশ ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশের দিকে দেখুন তারা কী করছে?’ দলীয়করণের কারণে পুলিশ এখন দলীয় লাঠিয়ালে পরিণত হয়েছে বলেও ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিগত পাঁচ দশকে তিনি এত গ্রেপ্তারের বিষয় দেখেননি যা এখন দেখছেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকারের উদ্দেশে ড. কামালের উপদেশ থাকবে ঢাকা-দিল্লির ট্রানজিট ইস্যু ও সমুদ্রবন্দরে ব্যবহারের বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার সঙ্গে এটি করতে হবে। ভারতের লেখিকা অরুন্ধতী রায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে ড. কামালের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তবে এক বছর ধরে তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। নির্বাচনের পর তিনি ভারত সফর করবেন এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করবেন।

সামনে নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেন একটি মোর্চার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী? এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেছেন, ‘তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী নন। তিনি ৮০ বছর বয়স্ক একজন মানুষ। তিনি কাজ করছেন আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি নির্বাচনের দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্বাচনের দিন হবে যুদ্ধের দিন। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তার চেম্বারে পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন। কী জন্য তারা গিয়েছিলেন জানতে চাইলে ড. কামাল জানান, পুলিশ আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা আমার নিরাপত্তা দিতে চান বাসা ও অফিসে, যদি আমি অনুমতি দিই।