আশঙ্কা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না|113614|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আশঙ্কা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না
সাইফুর রহমান

আশঙ্কা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না

বাধা-হামলা উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বরিশাল-৫ (সদর)আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইফুর রহমান নির্বাচনের পরিবেশ কেমন?

মজিবর রহমান সরোয়ার : শুরুর দিকে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলার ঘটনাও ঘটেনি। কেবল গণগ্রেপ্তার ছিল। কিন্তু বুধবার থেকে পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমাকেও প্রচার চালাতে দিচ্ছে না। আশঙ্কা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না।

সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এখন তো পরিবেশ ভালো হওয়ার কথা।

সরোয়ার : ভেবেছিলাম সেনাবাহিনী নামলে পরিবেশ ঠিক হয়ে যাবে। হয়েছে তো উল্টো। বুধবার সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় আমার সঙ্গে এক কর্মী প্রচারে ছিল। পুলিশ আমার সামনে তাকে গ্রেপ্তার করে। কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে? জানতে চাইলে পুলিশ বলে, তার কাছে লিফলেট ছিল। তার মানে কী? কর্মীরা আমার জন্য প্রচার চালাতে পারবে না? আমার স্ত্রীর সঙ্গে সাবেক সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র সালমা আক্তার পলি প্রচারে নেমেছিলেন। পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করেছে। আমার সঙ্গে যে প্রচারে নামে পুলিশ তাকেই গ্রেপ্তার করে। নৌপথে প্রচারে বের হয়েছিলাম। আওয়ামী লীগের কর্মীরা নৌকা ও স্পিডবোট দিয়ে ঘেরাও করে রাখে।

আপনার পক্ষে নির্বাচনী অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, সড়কে সড়কে পোস্টার আছে, তারপরও এমন আশঙ্কা কেন?

সরোয়ার : অস্থায়ী ক্যাম্প আর থাকছে কোথায়? বুধবার দুর্গাপুর, সাহেবের হাট ও চার কাউয়া এলাকায় তিনটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আমার প্রচার মাইক ভেঙে ফেলেছে। মহানগরের অধিকাংশ এলাকায় আমার পোস্টার নেই। পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রচারে বাধা দিচ্ছে।

প্রচারে বাধা, অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুরের ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন?

সরোয়ার : রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আমাকে ভোটের দিন যেন কেন্দ্রে এজেন্ট থাকে তার ব্যবস্থা করতে বলেছেন। আমার কর্মীদের ধরে ধরে গ্রেপ্তার করলে কারা এজেন্ট হিসেবে বসবে?

৩০ ডিসেম্বর কেমন ভোট হবে মনে হচ্ছে?

সরোয়ার : আমার তো মনে হচ্ছে, ৩০ ডিসেম্বর তেমন কিছু করতে পারবে না ভেবেই আওয়ামী লীগ ও পুলিশ মিলে আগে মাঠ গোছাচ্ছে। আমার দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যাতে ভোটের দিন কেউ এজেন্ট হিসেবে বসতে সাহস না করে। আমি ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন নির্বাচন দেখেছি। সিল দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরতেও দেখেছি। কিন্তু কোনো নির্বাচনে প্রার্থীকে প্রচার চালাতে বাধা দেয় এমন নজির দেখিনি। গত সিটি নির্বাচনে ভোটের দিন কারচুপি করেছে। কিন্তু আমার প্রচারে বাধা দেওয়া হয়নি। এখন আর আমাদের মাঠেই থাকতে দিতে চাইছে না। এই অবস্থা থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এমনটা আশা করা যায় না।

শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনার অবস্থান কেমন হবে?

সরোয়ার : বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব। আর আমি নির্বাচিত হলে বরিশালকে আধুনিক বরিশালে রূপ দিতে কাজ করব। বেকার সমস্যা দূর করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।

সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হওয়ার পরও বিজয়ী না হলে?

সরোয়ার : সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই বিজয়ী হব। তারপরও বিজয়ী হতে না পারলে জয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাব এবং তিনি চাইলে সহযোগিতা করব।