ভিডিওবার্তায় ফখরুল ভোট দিয়ে দেশের মালিকানা বুঝে নিন|113621|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভিডিওবার্তায় ফখরুল ভোট দিয়ে দেশের মালিকানা বুঝে নিন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিডিওবার্তায় ফখরুল ভোট দিয়ে দেশের মালিকানা বুঝে নিন

আগামী রোববারের ভোট সামনে রেখে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি ভিডিওবার্তা ছেড়েছে বিএনপি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ভিডিওবার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে ফখরুল বলেছেন, ‘৩০ তারিখ আপনি শুধু ভোট দেবেন না, সেদিন এই দেশটা আপনার হয়ে যাবে। আপনারা বুঝে নেবেন তার মালিকানা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক সংকটময় মুহূর্তে। আমি শুধু একবার আপনাকে চোখ দুটো বন্ধ করতে বলব। জানি না আপনি কী দেখতে পান? আমি দেখি ছোট্ট একটা মুখ, তুলতুলে গাল, খাড়া খাড়া চুল, আমার ছোট্ট সেই মেয়েটার প্রথম পায়ে হাঁটা। সে নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে আমি প্রথম জেনেছিলাম পৃথিবীর সব সন্তান আমাদের, আমরা যারা বাবা আর মা। আমি জানি আপনার চোখেও সেই একই দৃশ্য ভেসে ওঠে।’

তিনি বলেন, ‘মনটাকে একবার জিজ্ঞেস করুন, আপনি কী দেখতে চান এই ফুটফুটে শিশুটা বড় হয়ে প্রশ্ন ফাঁস করা পরীক্ষায় নকল করছে? কিংবা আপনার সারা জীবনের সঞ্চয় লুট করে কোনো বাজিকর তার ছুটি কাটানোর বাড়ি কিনছে কানাডায়। কিংবা আপনার ১৪ বছরের ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।  কেননা সাদা পোশাকের কেউ তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে যেকোনো সময়। যারা এই ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছেন আমি তাদের সুসংবাদ দিচ্ছি। আপনি একা নন, বিশ্বাস করুন আপনিই বাংলাদেশ। আমরাই সবাই। বিশ্বাস করুনÑ আমরাই সবাই, আমাদের আর কোনো ভয় নেই। এই হৃদয়ে বাংলাদেশকে বসিয়েছি  এত বড় জায়গা জুড়ে যে সেখানে আর ভয়ের কোনো জায়গা নেই।’

ফখরুল বলেন, ‘আপনারা বেরিয়ে আসুন। বাংলাদেশের সব বাবা আর মা তাদের সন্তানদের জন্য আজ কিছু দিয়ে যাবেন। একদিন তারা জিজ্ঞেস করবে আমাদের এই দেশটা যখন মৃত্যুপুরী হয়েছিল তখন তুমি কী করছিলে মা?’

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদের দুটো হাতের দিকে এই দেশ তাকিয়ে আছে। আমি আপনাদের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছি। আমি সেই মায়ের দিকে তাকিয়ে আছি, যিনি তার বিয়ের শেষ গয়নাটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন তার সন্তানের লেখাপড়ার জন্য। আপনাকে বলছি আমি, বেরিয়ে আসুন, নিয়ে নিন এই দেশটা।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আমি জানি আমাদের সবচেয়ে সুন্দরগুলো আমাদের সামনে, সেই দিনগুলো আমাদের, আমাদের সন্তানদের জন্য। আমরা এই দেশটা তাদের হাতে দিয়ে যেতে চাই। আমাদের আজ আর কোনো ভয় নেই।’

আ.লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি হবে না : আমাদের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি ও হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই অভিযোগ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, কয়েকদিন ধরে রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে শীর্ষ নেতাদের আক্রমণ ও প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে প্রকাশ্যে বড় বড় অস্ত্র, রাম দা, লাঠি নিয়ে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীরা’ পাড়া-মহল্লায় ঢুকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় দেখাচ্ছে।

ওই সময় নির্দলীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘আজ প্রমাণিত হচ্ছে, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কৃতিতে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হতে পারে না এটা প্রমাণিত হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার নির্বাচিত আসন ঠাকুরগাঁও-১ তারা টার্গেট করে নিয়েছে। বিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন নিজেদের অফিস পুড়িয়ে দিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এখানে তারা সাম্প্রদায়িক ঘটনা আনছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে। বিএনপির কেউ এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত নয়।’            

শেষপর্যন্ত নির্বাচনে থাকার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার কী চাচ্ছে? সরকার রাষ্ট্রকে ব্যবহার করছে কেন? সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিচ্ছে কেন?’

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে মিটিং করে বলছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ যেন না দাঁড়ায়। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তো কেউ দাঁড়াচ্ছে না। এখানে দাঁড়াচ্ছে নির্বাচনের জন্য। একটা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন করা যাবে না, এটা তো আচরণবিধিতে নেই। কতগুলো এলাকায় প্রশাসন হয়তো বা কিছুটা লিবারেল আছে। সেখানে কিছুটা প্রচার হচ্ছে।’