মসজিদের ওপর করারোপ করবে জার্মানি|113634|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:৫০
মসজিদের ওপর করারোপ করবে জার্মানি
অনলাইন ডেস্ক

মসজিদের ওপর করারোপ করবে জার্মানি

মসজিদ সংশ্লিষ্টদের স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মসজিদের ওপর কর বসানোর কথা ভাবছে জার্মান সরকার। মূলত মুসলিমদেরকে বিদেশি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবমুক্ত রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটি।

রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়, জার্মানির অনেক মসজিদ বিদেশি অর্থায়নে এবং নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। ফলে মসজিদের ভেতরে আসলে কী ঘটছে তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অগোচরে থেকে যায়।

পার্লামেন্টের একাধিক এমপি এর সমাধান হিসেবে মসজিদের ওপর কর বসানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশটির মসজিদ সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এ অর্থ দিয়ে তাদেরকে স্বাবলম্বীও করা যাবে।

এ প্রস্তাব মতে, জার্মানির প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম এ বিশেষ কর দেবেন। সেই করের অর্থ সরকারের কাছে নিবন্ধিত ইসলামি সংগঠনগুলোকে বিতরণ করা হবে। জার্মানিসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে একইভাবে ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদেরও কর দিতে হয়।

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের উপপ্রধান থোরস্টেন ফ্রেই বলেন, প্রাথমিকভাবে জার্মানির মুসলমানদের বাইরের দেশের প্রভাবমুক্ত রাখা সম্ভব হবে এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছি আমরা। এ জন্য কর আরোপ হবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের মধ্যে ঝোঁকও বৃদ্ধি পাবে।

ফ্রেইকে সমর্থন জানিয়ে সরকার জোটের ব্যাভারিয়ান ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের (বিসিএস) দলের এমপি মাইকেল ফ্রিজার বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে জার্মানির মসজিদগুলোর কার্যক্রম আরও বেশি স্বচ্ছ হবে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী সদস্য বুরখার্ড লিশকাও এ প্রস্তাবে সায় দেন।

এমপিদের মতে, ইমামরা কী প্রচার করছেন তার সম্পূর্ণটাই ইন্টারনেটে আপলোড করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা হোক। তারা বলেন, মসজিদ সবসময় উন্মুক্ত এবং এর কার্যক্রম স্বচ্ছ হতে হবে।

একইভাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ প্রস্তাবকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে তাদের মতে, মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপরে এ আইন আনা নির্ভর করবে। কারণ মুসলিম সংগঠনগুলোর সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি ছাড়া এটি করা সম্ভব হবে না।

তবে জার্মানিতে কোনো আইন কার্যকর হওয়ার আগে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর খসড়া আগে প্রাদেশিক সরকারগুলোর মধ্যে আলোচিত হবে। ফলে মসজিদ কর কখন চালু করা হবে তা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি দেশটির এসব আইনপ্রণেতারা।