নিরাপত্তা চান ভোটাররা|113738|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নিরাপত্তা চান ভোটাররা
যশোর প্রতিনিধি

নিরাপত্তা চান ভোটাররা

ফাইল ছবি

পুলিশের ধরপাকড় ও ধানের শীষের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকিধমকির কারণে শঙ্কায় রয়েছে ভোটাররা

কেমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে যশোর সদর উপজেলার ডহেরপাড়া গ্রামের রোজিনা খাতুন বললেন, ‘যাওয়া যাবেনে তো?’ এ প্রশ্নটি এখন যশোর সদর আসনের সাধারণ ভোটারদের অন্যতম জিজ্ঞাসা।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তার কর্মীরা ছাড়া কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে নেই ভোটের মাঠে। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা, পুলিশের ব্যাপক ধর-পাকড় ও ধানের শীষের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকির ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হওয়ার কথা জানা গেছে। ভোটকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখানকার ভোটারদের প্রথম চাওয়া।

জাতীয় সংসদে যশোর-৩ আসন জেলার সদর উপজেলাকে নিয়ে। জেলার রাজনীতিতে এ উপজেলার রাজনীতিকরা মুখ্য ভূমিকা পালন করায় আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছয়জন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন, কুলো মার্কায় মারুফ হোসেন কাজল, তারা মার্কায় বিপ্লব আজাদ ও গোলাপ ফুল মার্কায় মনিরুজ্জামান। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৩৪০ জন। ভোটকেন্দ্র ১৭২টি।

ভোটারদের অভিমত সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। কিন্তু প্রচারে দেখা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থী কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ২৭ ডিসেম্বর প্রচার শেষ দিনে দেখা গেছে প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মাত্র দুজন কর্মী নিয়ে গণসংযোগ করছেন বিভিন্ন ইউনিয়নে। প্রচার শুরুর পর থেকে তিনি বাধার শিকার হয়েছেন। প্রতিদিনই তার নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হয়েছে। এমনকি তার নির্বাচনী প্রধান মুখপাত্র জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুও ২৬ ডিসেম্বর নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। নতুন এজেন্ট নিয়োগ দিতে হয়েছে তাকে। অমিত জানান, তার দলের পদধারী আড়াইশজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রচারণার শেষ দিনে তাই অন্যসব নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারণায় বের হননি গ্রেপ্তার আতঙ্কে।

অমিত অভিযোগ করেন, শেষপর্যায়ে তার নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তা-ব চালাচ্ছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। ওই সব বাড়িতে গিয়ে গুলি ছোড়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে ব্যাপক। যেসব বাড়িতে তালা ভেঙে ঢুকতে পারেনি, সেখানে জানালা ভেঙে পেট্রল ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারকে জানালেও তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন না বা কোনো ফল হচ্ছে না।

এর আগে অমিত নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। গত ২৬ ডিসেম্বর যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অমিত বলেছিলেন, তিনি যদি গ্রেপ্তার হন তাহলে নির্বাচন পরিচালনা করবেন তার মা ও তার স্ত্রী। এদিন সংবাদ সম্মেলনে শুধু সহধর্মিণী সোহানা পারভীন তার পাশে ছিলেন।

অমিতের উপর্যুক্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা মার্কার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করছে। তাই সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এ জন্য তারা প্রচারে জনগণের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।  ভোটারদের আতঙ্কের বিষয়ে কাজী নাবিল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোট বিপ্লব ঘটবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসবে। বিরোধীরা নানা অপ্রচার চালাচ্ছে।  এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আবদুল আউয়াল বলেন, অভিযোগ পেলেই সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এমনকি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হচ্ছে ঘটনাস্থলে।