ড. কামালের ভূমিকায় সন্দেহ|113759|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ড. কামালের ভূমিকায় সন্দেহ
প্রতীক ইজাজ

ড. কামালের ভূমিকায় সন্দেহ

ফাইল ছবি

বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রাখতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটির একটি অংশ। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ তো সম্ভবই নয়, এমনকি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যে আন্দোলন করার কথা ছিল সেটার সম্ভাবনাও নষ্ট হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক স্থায়ী কমিটির সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ধানের শীষের প্রার্থীদের মাঠে দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা এলাকাছাড়া। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে জোরালো কোনো আন্দোলন হলো না। সেখানে কোন প্রেক্ষাপটে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনের মাঠে রইলেন এবং ভোট বিপ্লবের ডাক দিলেন তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’

দলটির বিভিন্ন স্তরের কয়েক জন নেতা বলেন, শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখিয়ে আসছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তাদের সমর্থিত অংশ নির্বাচনে থাকার পক্ষে আগে থেকেই। কিন্তু দলের একটি অংশ ও তৃণমূল নেতারা শেষদিকে এসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তা আমলে  নেননি ড. কামাল হোসেন। বরং তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে থাকার পক্ষে নানা যুক্তি দেখিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে এ্যানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে বলেছি, নির্বাচন করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। দেশবাসী এটা দেখছে। আর নির্বাচন বর্জন যে যথাযথ (অ্যাপ্রোপ্রিয়েট), দেশবাসী এটা বিবেচনা করবে। নির্বাচন বর্জন করলেও যা হবে, না করলেও তা হবে।’ তবে তিনি নির্বাচনে থাকার ব্যাপারে ড. কামাল হোসেন বা ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, এটা দলের হাইকমান্ড দেখবে। তবে পরিবেশ নিশ্চিত না করে নির্বাচনে আসাটা ঠিক হয়নি। 

দলের নেতাকর্মীরা আরো বলছেন, ড. কামালের নানা সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলের একটি অংশের বিরোধ শুরু থেকেই। জামায়াতের ফ্রন্টে থাকা নিয়ে ড. কামাল সরাসরি আপত্তি জানান। তখন জামায়াতকে ফ্রন্টে রাখা না হলেও জামায়াতের ২৩ প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় একেবারে শেষের দিকে এসে ক্ষেপে যান ড. কামাল। গত বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রার্থী করবে জানলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশ হতেন না।  তিনি বলেন, ‘যদি জানতাম (জামায়াত নেতাদের বিএনপির টিকিট দেওয়া হবে), আমি এর (ঐক্যফ্রন্টের) অংশ হতাম না। তবে ভবিষ্যতে সরকারে যদি এই লোকগুলোর (জামায়াত নেতা) কোনো ভূমিকা থাকে তবে আমি আর এক দিনও থাকব না।’ এর ফলে বিএনপির সঙ্গে ড. কামালের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিল বলেও মনে করছেন দলের নেতারা। এর আগে আসন নিয়েও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় ড. কামালের। সিলেটের শাহজালাল মাজারে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দিন ড. কামাল হোসেন থাকলেও পরে তাকে আর কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিন দিন আগের দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায়ও বিষয়টি উঠেছিল। সেখানে এমন পরিবেশে নির্বাচনে না থাকার পক্ষে ছিলেন অনেকে। কিন্তু শোনা হয়নি। বরং ড. কামালের ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ এই নির্বাচনে কোনো লাভ হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শক্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্যেই আমরা জোট করেছি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত হবে না। জোটের মধ্যে নানা আলোচনা হয়। কথা হয়। সব ধরতে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হলো তা নিয়ে তর্কবিতর্ক রয়েছে। ড. কামাল হোসেনের নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষ নিয়েও নানা আলোচনা আছে। কিন্তু এটা ঠিক যে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তার পরও কেন গেল, সেটা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে। তবে হারলেও দেশ শক্ত বিরোধী দল পাবে। এটাই লাভ।