রাজধানীর ভোটের মাঠ থাকবে কড়া নিরাপত্তায়|113763|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ডিএমপি কমিশনার
রাজধানীর ভোটের মাঠ থাকবে কড়া নিরাপত্তায়
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ভোটের মাঠ থাকবে কড়া নিরাপত্তায়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপদ ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরিতে রাজধানীজুড়ে সুসংগঠিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, ভোটের মাঠ সংঘাতমুক্ত ও আনন্দমুখর রাখতে সব বৈধ অস্ত্র থানায় জমা নেওয়া হয়েছে। প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখতে চারটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সুদৃঢ় নিরাপত্তাবলয়ের অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে পুলিশের চারটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। মিরপুর, আবদুল গনি রোড, গুলশান ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এসব অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থাকবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর দুই হাজার ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, রাজধানীর প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। চার-পাঁচটি কেন্দ্র মিলিয়ে পুলিশের একটি করে ভ্রাম্যমাণ দল দায়িত্বে থাকবে। এ ছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। সুস্পষ্ট নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি না থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সংস্থা মিলে ভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যেন কোনো ধরনের সংঘাত না হয়। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন ও ভোট শেষে বাড়ি ফিরবেন, তাদের নিরাপত্তায় যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তার সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে। যদি কোনো ভোটার তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ভোগেন তবে ৯৯৯ এ কল দেবেন অথবা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীকে অবহিত করে সহায়তা নিতে পারবেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশের গোয়েন্দা ও আইইডি বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। অগ্রিম তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ভার্চুয়াল জগতে যেকোনো ধরনের হুমকি ও গুজব প্রতিরোধেও তারা সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন কমিশন কর্র্তৃক অর্পিত সকল দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সকৃত সকল অস্ত্র আমরা বিভিন্ন থানায় জমা নিয়েছি। প্রার্থী ব্যতীত কেউ কোনো বৈধ অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করতে পারবে না। যেসব স্থানে পেশিশক্তি প্রয়োগ হতে পারে বা বাধা আসতে পারে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তেমনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাধাহীন সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে সকল প্রস্তুতি চলমান আছে।’

ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘১৪টি পয়েন্ট থেকে ব্যালট পেপার বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে; সেসব স্থানে নিñিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। যেকোনো ধরনের গোলযোগ কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণসহ সকল বাহিনীর সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে অর্থবহ ভোট অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধপরিকর।’