ফের বন্ধ হতে পারে থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা|113764|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ফের বন্ধ হতে পারে থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা
মদিনা জাহান রিমি

ফের বন্ধ হতে পারে থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবার থ্রি-জি ও ফোর-জি মোবাইল সেবা ১০ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আবার তা চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা না পেলেও গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধ রাখা হয়। আগামী রবিবার ভোটের দিন মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে ব্রডব্যান্ড সংযোগের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৪ ডিসেম্বর ইসি ও বিটিআরসি’র বৈঠকে নির্বাচনে ফেইসবুকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং থ্রি-জি ও ফোর-জি মোবাইল সেবা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে ইন্টারনেট বন্ধ বিষয়ক চারটি বিকল্প পথ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে গতকাল বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই ইস্যুতে আমাদের কিছুই করার নেই। নির্বাচন কমিশন আমাদের যেভাবে বলবে আমরা সেভাবেই কাজ করব। যেকোনো বিকল্পের জন্যই আমাদের ২৪ ঘণ্টার টিম তৈরি করা আছে।’ এ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতেও রাজি হননি তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কারিগরি বিষয় খতিয়ে দেখতে বিটিআরসির প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে এসেছে। কোনো সেবা বন্ধ করতে কত সময় লাগবে সেটিও তারা পরীক্ষা করেছে। ইসির নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তা কার্যকর করতে পুরোপুরি প্রস্তুত তারা।

বিটিআরসি বলছে, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করতে সময় লাগবে দুই মিনিট। ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করতে সময় লাগবে ২০ মিনিটের মতো। তবে টু-জি চালু রেখে থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধ করতে গেলে একটু বেশি সময় লাগবে। সেবা খাতের অনেকটাই এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করা যুক্তিযুক্ত হবে না বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে বিদেশি গণমাধ্যমগুলোর জন্য একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন তথ্যসংগ্রহে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নাগরিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ এটিএম সেবা থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানিসহ অনেক খাতই এখন সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল।

বিটিআরসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে আট কোটি ৮৩ লাখ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সাত কোটিরও বেশি ফোনে থ্রি-জি বা ফোর-জি সংযোগ আছে। মোবাইল ইন্টারনেট টু-জিতে নামিয়ে আনলে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা কিংবা দেখা যায় না। গত আগস্ট মাসে সড়ক নিরাপদ করার দাবিতে স্কুল-কলেজপড়–য়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল সেবা টু-জিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল।