চট্টগ্রামে নির্ভার আ.লীগ, শঙ্কিত বিএনপির আশা|113784|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
চট্টগ্রামে নির্ভার আ.লীগ, শঙ্কিত বিএনপির আশা
শামসুল ইসলাম ও সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে নির্ভার আ.লীগ, শঙ্কিত বিএনপির আশা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাম জোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১১৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার বন্ধ হলেও ভোটারদের ভিডিও ও খুদেবার্তা পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। আগামীকাল রোববার ভোটে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে নির্ভার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা, অপরদিকে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আসন পুনরুদ্ধারে আশাবাদী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থীরা।

এইচ এম এরশাদের টানা ৯ বছরের ক্ষমতার অবসানের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৫ আসনের মধ্যে বিএনপি ৮টি, আওয়ামী লীগ ৪ ও অন্যান্য দল ৩টিতে জয়লাভ করেছিল। ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১১ ও আওয়ামী লীগ ৪টি আসন পায়। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১২ ও আওয়ামী লীগ ৪টি আসন পায়। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৯, বিএনপি ৩ ও অন্যান্য দল ৪টি আসন লাভ করে। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।

এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট প্রার্থীরা চট্টগ্রামের ১৬ আসন ধরে রাখতে একাট্টা। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়টাই এলাকা চষে বেড়িয়েছেন তারা। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা অধিকাংশ আসনে প্রচারে নামতে পারেননি। চট্টগ্রাম জুড়ে নৌকার পোস্টার

থাকলেও তেমন চোখে পড়েনি ধানের শীষের। অল্প কয়েকটি আসনে শুরুর দিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রচারে নামলেও শেষ দিকে তাও সীমিত হয়ে যায়। এরপরও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি কোনো প্রার্থী। তবে নির্বাচনের দিন তাদের কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে তাদের। এ অবস্থায় প্রার্থীরা ভরসা করছেন ভোটারদের ওপর। একাধিক প্রার্থী জানান, ভোটাররা যদি কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তাহলে তাদের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনে চট্টগ্রামের সব আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হবেনÑ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ উন্নয়ন চায়, বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা চায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে গত ১০ বছরে চট্টগ্রামে যেভাবে উন্নয়ন কাজ হয়েছে, অতীতে সেভাবে হয়নি। বে-টার্মিনাল, কর্ণফুলী টার্নেল, ফ্লাইওভার, ইকোনমিক জোন, সড়ক, অবকাঠামোসহ এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে উন্নয়ন কাজ হয়নি। এই উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই জনগণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিজয়ী করবেন।’

অপরদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। গত ১০ বছর মানুষ ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেনি। তারা নিজস্ব প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়। তারা একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার চায়। তাই সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করবে।’

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে মহাজোটের শরিক দল আওয়ামী লীগ ১৩টি, জাতীয় পার্টি ১টি, জাসদ ১টি ও তরীকত ফেডারেশন ১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১২টি, এলডিপি ২টি, জামায়াত ১টি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মহাজোটের শরিক দল তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির আজিম উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল প্রতীক) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির (ধানের শীষ প্রতীক) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মো. জসীম উদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল এলডিপির (ধানের শীষ প্রতীক) মো. নুরুল আলম, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মহাজোটের শরিক দল জাসদের (নৌকা প্রতীক) মইনউদ্দীন খান বাদলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে আওয়ামী লীগের ডা. মো. আফছারুল আমীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের এম এ লতিফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত এলডিপির (ছাতা প্রতীক) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী জামায়াত নেতা (ধানের শীষ প্রতীক) আ ন ম শামশুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।