ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না: ভোটারদের সিইসি|113872|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪৩
ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না: ভোটারদের সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না: ভোটারদের সিইসি

শনিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন সিইসি। ছবি: দেশ রূপান্তর

ভোটারদের ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ভোটার সাধারণের কাজে অনুরোধ করি, আপনার ভোট অতি মূল্যবান। কোনো ভয়ভীতির কাছে নত স্বীকার করবেন না, স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেছেন, সবার প্রতি অনুরোধ করতে চাই, আপনারা আচরণবিধি মেনে চলুন। সহিংসতা পরিহার করুন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বজার রাখুন, নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করুন।

ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের দেওয়া এজেন্টদের হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের কোনোরকম হয়রানি করা যাবে না। তাদের নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি বলেন, ভোটের সময় কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর হাতে তা দমন করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নূরুল হুদা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মকর্তার এটা সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দল-মতের উর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, কারো কারণে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। কোনো প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন সিইসি। বলেন, প্রার্থী ও ভোটাররা যেন ন্যায্য অধিকার থেকে ভোট দিতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলার সর্বস্তরের সদস্যদের নির্দেশ দিচ্ছি। সহিংস ও নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কঠোর অবস্থান নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, কোনো মহল ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে অবশ্যই দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণ করবে। কনো বাহিনীর নির্লিপ্ততার কারণে অথবা নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে কোনো কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে তদন্ত করা হবে।

বিফ্রিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, কাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি আমরা। 

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে রেকর্ডসংখ্যক  এক হাজার ৮৬১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে নেমেছে।

তিনি বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সমগ্র দেশ মুখরিত হয়েছে। মিছিল, সমাবেশ, পথসভা, জনসভা, লংমার্চ, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রস্তুতি পর্বে দেশব্যাপী ৬৬জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৮০জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কেন্দ্রভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, নির্বাচন বিবেচনায় কেন্দ্রের অবস্থান সবার ওপরে, কেন্দ্রের সাফল্যের ভর করে পুরো নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করে। সেখানে কর্তব্যে থাকেন প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তাদের প্রত্যেকেই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল হাতে না পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো অবস্থায় তারা কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। কেউ যদি অবৈধভাবে এজেন্টকে কক্ষ ত্যাগ করতে বলে তখন ম্যাজিস্ট্রেট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা নিতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীগণ নির্বাচনের বড় দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মাধ্যমে দেশবাসী নির্বাচনের সঠিক চিত্র দেখতে পারে।