ছিটমহলে নয় হাজার ‘নতুন বাংলাদেশির’ মনে ভোটের আমেজ|113882|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:১৯
ছিটমহলে নয় হাজার ‘নতুন বাংলাদেশির’ মনে ভোটের আমেজ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ছিটমহলে নয় হাজার ‘নতুন বাংলাদেশির’ মনে ভোটের আমেজ

ভোটের আমেজে ছিটমহলবাসী।

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ টি ছিটমহলের প্রায় ৯ হাজার নতুন বাংলাদেশি প্রথম বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দীর্ঘ ৭২ বছর পর তারা ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে যাচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তাদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই।

পঞ্চগড়ের অন্য এলাকার মতো বিলুপ্ত ছিটমহলের অলি-গলিতে, পাড়ার আড্ডা কিংবা চায়ের দোকানে এখন কেবলই নির্বাচনের আলাপ-আলোচনা।

ইন্দিরা মুজিব চুক্তির আলোকে ছিটমহলগুলো বিনিময় হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ নতুন বাংলাদেশিরা। জীবনের প্রথম কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এসব এলাকার ভোটাররা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হোক এটাই তাদের প্রত্যাশা। বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য জানা গেছে। 
 
জেলা নির্বাচন অফিসের দেয়া তথ্য মতে পঞ্চগড়ের ৩৬ টি ছিটমহলে মোট ৮ হাজার ৯৩৫ জন নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পঞ্চগড়-১ আসনের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭ টি বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৫। নারী ভোটার ৪৯৮ এবং পুরুষ ভোটার ৫২৭। পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ২৯ টি বিলুপ্ত ছিটমহলে ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ২২০। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ হাজার ৯৪৫ এবং পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ২৭৫। পঞ্চগড়ের ৩৬ টি ছিটমহলের মোট জনসংখ্যা ১৯ হাজার ৮৫২ জন। 

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা ফয়জুল হক জানান, ‘জীবনের খুব ইচ্ছে ছিলো যেন বাংলাদেশি হিসেবে মরতে পারি। আমার ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশের পরিচয় পেয়েছি। এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবো। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন মরেও শান্তি পাবো।’  

এই ছিটমহলের মাহুবব হোসেন জানান, ‘এতো দিন মানুষ ভোট দিতো আমরা দেখতাম, এবার আমরাও ভোট দিতে পারবো। আগে আমাদের কেউ খোঁজ নিতো না। এখন সব দলের নেতাকর্মীরা আমাদের খোঁজ খবর নেয়।’

ছিটমহল আন্দোলনের নেতা মফিজার রহমান জানান, ‘বাংলাদেশ যেমন স্বাধীন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তেমনি ছিটমহল স্বাধীন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহল এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা ভোটার হয়েছি, স্মার্টকার্ড পেয়েছি। এখন জাতীয় সংসদে ভোট প্রদানের পালা। এজন্য আমরা অধীর আগ্রহে ভোটের দিনটির জন্য অপেক্ষায় আছি।’

বোদা উপজেলার বিলুপ্ত পুটিমারী ছিটমহলের তছলিম উদ্দিন (৭০) বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে এসে সরকারি (জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে ভোট দিতে পারবো, এটা কল্পনাও করিনি। আমরা এখন অপেক্ষা করছি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, মোট ৮ হাজার ৯৪৫ জন বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী ভোটার হয়েছেন। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করি উৎসব মুখর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রথম ভোটাধিকার করতে পারবেন।