স্বাস্থ্যকর রাজনীতি ফিরুক|113922|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
স্বাস্থ্যকর রাজনীতি ফিরুক
রূপান্তর ডেস্ক

স্বাস্থ্যকর রাজনীতি ফিরুক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ। সারা দেশ তাকিয়ে আছে ভোটকেন্দ্রের দিকে। সহিংসতামুক্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধে ভোট দিতে চায় দেশের মানুষ। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণের সুযোগ এবং গণমাধ্যম-কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রতিটি স্তরে নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিরাপত্তা বিধানের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

গতবারের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচনের পর সারা দেশে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আজকের ভোটাভুটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেননা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে সক্রিয় সংসদীয় রাজনীতি ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রায় তিন দশকের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে দেশের প্রধান সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দেশের মানুষ এর সুফল পাবে কি না, তা নির্ভর করছে ভোটের ফল এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর।

প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর মধ্যে নানা দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ না-পাওয়ার অভিযোগ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সবারই ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা ম্লান হয়ে যেতে পারে নির্বাচনী ফল মেনে নেওয়া ও না-নেওয়া এবং ভোট-পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কায়। বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার কারণে সেই আশঙ্কা করাটা অমূলক নয়। কিন্তু জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং সহনশীলতা খুবই জরুরি। ভোটের ফলে যারাই জিতুক বা হারুক সবারই লক্ষ্য হওয়া উচিত রাজনীতিসচেতন আগামীর বাংলাদেশ গড়ায় মনোযোগ দেওয়া; দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত সংসদীয় রাজনীতিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা। কোনো দল বা জোট সরকার গঠন করলে বাকিরা কার্যকর বিরোধী দল হয়ে উঠুক। সংসদে ও মাঠে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার বা থাকার রাজনীতির বদলে সত্যিকার রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে হাজির হোক রাজনৈতিক দলগুলো।

আমরা একুশ শতকের দ্বিতীয় দশক পার করছি। সময় বদলেছে এবং দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। রাজনীতি এবং ভোটের মাঠে তরুণ ও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই প্রজন্মের নাগরিকেরা রাজনীতির এমন গুণগত পরিবর্তনগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথাগত রাজনীতির সংঘাত-হানাহানি এই প্রজন্ম চায় না। আগামীর বাংলাদেশ গড়ায় তরুণদের সমর্থন পেতে হলে অবশ্যই রাজনীতির এই গুণগত পরিবর্তনের বিষয়ে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সচেতন হতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধে কোটি জনতার আত্মত্যাগ আর লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশকে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। নির্বাচনী ফল মেনে নিয়ে আগামীর রাজনৈতিক যাত্রায় জনগণকে শামিল করেই সবাইকে এগোতে হবে। ভোট-পরবর্তী সহিংসতা কিংবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে জনগণ এই রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারাতে পারে। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করবেÑ এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।