একান্ত ব্যক্তিগত জাকারবার্গ|113929|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
একান্ত ব্যক্তিগত জাকারবার্গ

একান্ত ব্যক্তিগত জাকারবার্গ

ফেইসবুকের নাম জানে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। বিশ্বজুড়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে এই ফেইসবুক। ফেইসবুকের নেপথ্য নায়ক মার্ক জাকারবার্গ। শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, সম্পদ অর্জনেও তিনি পৃথিবীর প্রায় সব মানুষকেই ছাড়িয়ে গেছেন। সম্প্রতি লোকসানেও তিনি ভেঙে দিয়েছেন অতীতের সব রেকর্ড। ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি লোকসান করে বছরের শেষ মাসটিতে আবার তিনি আলোচনায়। লোকসান যতই হোক, ৫৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন সম্পদ নিয়ে এখনো শ্রেষ্ঠ ধনীদের প্রথম সারিতেই আছেন তিনি। মাত্র ২৩ বছরে মিলিয়নিয়ার আর ২৬ বছরে টাইম ম্যাগাজিনে বছরে সেরা ব্যক্তিত্ব হন তিনি। হ্যাকার, কলেজ থেকে ঝরে পড়া, হুডিওয়ালা, টি-শার্ট, জিন্স ও স্নিকার্স পরই পুরো বিশ্বকে জয় করা এই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লিখলেন পরাগ মাঝি

জ্যাকনেট থেকে শুরু

কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও সফটওয়্যার ডেভেলপার মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গ ১৯৮৪ সালের ১৪ মে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অ্যাডওয়ার্ড জাকারবার্গ একজন দাঁতবিশেষজ্ঞ। আর মা কারেন একজন সাইকোলজিস্ট। রান্ডি, ডোনা এবং এরিয়েল নামে জাকারবার্গের ছোট তিন বোন আছে। ছোটবেলা থেকেই প্রোগ্রামে তিনি আগ্রহী ছিলেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে অ্যাটারি বেসিক প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে ‘জ্যাকনেট’ নামে তিনি একটি ম্যাসেজিং প্রোগ্রাম তৈরি করেন। যে বয়সে শিশুরা গেমস খেলে, সে বয়সে তিনি গেমস তৈরি করতেন। স্কুলে তিনি ‘অসিক্রীড়া’ দলের অধিনায়ক ছিলেন। টুকটাক কবিতা আবৃত্তি করেও তিনি সহপাঠীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন।

সার্বক্ষণিক সঙ্গী বিস্ট

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ২০০৪ সালের প্রথমদিকে হুট করেই সহপাঠীর মধ্য থেকে এক মাসের জন্য লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন জাকারবার্গ। পরে যখন তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন, তখন ‘ফেইসবুক’ নামে একটি ওয়েবসাইটে সাইন-আপ করার জন্য বন্ধুদের কাছে পীড়াপীড়ি শুরু করেন। প্রথমদিকে তার এই আচরণ অন্যদের কাছে বিরক্ত লাগত। স্টিফেন নামে এক ছাত্রী জানান, তিনি ছিলেন ফেইসবুকের ৯২তম সাইন-আপকারী। তার মনে আছে, একটি ক্লাসে শিক্ষক সবাইকে নিজের পরিচয় দেওয়ার অনুরোধ জানান। যখন জাকারবার্গ তার পরিচয় দিচ্ছিলেন, তখন সবাই চিৎকার করে বলছিল ‘তোমাকে আর পরিচয় দিতে হবে না, তোমাকে আমরা সবাই চিনি। তুমি হলে আমাদের ফ্যাবুক ভাই।’ সহপাঠীদের উপহাসে তাকে খুব লজ্জিত দেখাচ্ছিল সেদিন। তবে ওই বছরটি শেষ হতে না হতেই ফেইসবুকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ছয় হাজারে। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। জানা গেছে, ফেইসবুক সৃষ্টি করলেও তাতে কোনো আসক্তি নেই জাকারবার্গের। এসবের চেয়ে বনে জঙ্গলে মাঝে-মাঝে শিকার করে বেড়াতেই তার ভালো লাগে বেশি। ফেইসবুকের চেয়ে পোষা কুকুর বিস্টের সঙ্গেই বেশি সময় কাটে তার।

হার্ভার্ড থেকে পেলেন বউ

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাকারবার্গ ফেইসবুক নিয়ে যতটা মেতেছিলেন, পড়াশোনা নিয়ে ততটা নয়। ফলে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি তিনি। বারবার ফেল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই প্রথমে তাকে বের করে দিতে চেয়েছিল। সে সময় চেষ্টা-তদবির করে তিনি তার ছাত্রত্ব বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

এই হার্ভার্ডই ২০১৭ সালে জাকারবার্গকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে যখন তাকে ‘ডক্টর মার্ক জাকারবার্গ’ বলে আমন্ত্রণ জানানো হলো, তখন তার মুখে দুষ্টুমি ভরা হাসি ফুটে উঠেছিল। বক্তৃতা দিতে গিয়ে কাউকে তেল না দিয়ে তিনি অকপটে বললেন, ‘হার্ভার্ড থেকে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া আমার স্ত্রী।’

ম্যাক্সিমা ও অগাস্ট

হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার পরপরই প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে জাকারবার্গের পরিচয়। ২০০৩ সালে তারা একে অপরের প্রেমে পড়েন। ২০১২ সালে প্রিসিলাকে যখন বিয়ে করেন, তত দিনে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকায় চলে এসেছেন জাকারবার্গ। বিয়ের পর থেকেই সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু পরপর তিনবার প্রিসিলার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। অবশেষে ২০১৫ সালে জন্ম নেয় তাদের প্রথম মেয়ে ম্যাক্সিমা। পরে ২০১৭ সালে তাদের দ্বিতীয় মেয়ে অগাস্টের জন্ম হয়। মেয়েদের নিয়ে সব সময়ই উচ্ছ্বসিত থাকেন জাকারবার্গ। তার বিভিন্ন ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এই উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। অগাস্টের জন্মের পর নবজাতকের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন জাকারবার্গ। চিঠিতে তিনি তার মেয়েকে কঠিন পৃথিবীকে মোকাবিলায় খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া শিশু থাকার মজা উপভোগ করতেও আহ্বান জানান তিনি। ২০১৫ সালে বড় মেয়ে ম্যাক্সের উদ্দেশেও একই ধরনের একটি চিঠি লিখেছিলেন মার্ক। মেয়েদের নিয়ে ছেলেমানুষিও করেন জাকারবার্গ। মেয়ে ম্যাক্সিমার বয়স যখন দুই মাস, তখন মেয়েকে সাঁতার শেখানোর বাতিক দেখা দিয়েছিল তার মধ্যে। ম্যাক্সকে সুইমিং পুলে নিয়ে প্রথম গোসল করানোর সময় সাঁতার কাটানোর একটি ছবি নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন জাকারবার্গ।

অধিকাংশ সময় গুরুগম্ভীর বিষয়ে পোস্ট দিলেও মেয়েদের প্রসঙ্গ টেনে সম্প্রতি একটি মজার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাকারবার্গ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ জানতে পারলাম, আমার মেয়ে মনে করে আমি একটি বইয়ের দোকানে কাজ করি।’ ফেইসবুকের সঙ্গে বুক শব্দটি যুক্ত থাকার কারণেই হয়তো ফেইসবুককে বইয়ের দোকান বলে ভুল করেছে তার তিন বছরের মেয়ে ম্যাক্সিমা।

নিরাপত্তা

সর্বশেষ শুক্রবার পর্যন্ত জাকারবার্গের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ সম্পদ নিয়ে তিনি এখন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকায় অষ্টম স্থানে আছেন। তবে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন। স্ত্রী প্রিসিলা আর দুই মেয়েকে নিয়ে জাকারবার্গের ছোট্ট সুখের সংসার। তবে এই পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ মজবুত। ফেইসবুকের পক্ষ থেকে জাকারবার্গের পরিবারের নিরাপত্তায় বছরে এক কোটি ডলার বা ৮২ কোটি টাকার মতো ব্যয় করা হয়। এ খরচের মধ্যে জাকারবার্গের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী, তার বাড়ির নিরাপত্তায় নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও এ-সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ, ব্যক্তিগত ভ্রমণের নিজস্ব উড়োজাহাজ ব্যবহার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ধূসর টি-শার্ট ও হুডি

ফ্যাশনে খুব সাদাসিধে জাকারবার্গ ও তার পরিবারের সদস্যরা। জাকারবার্গের ওয়্যারড্রোবে কিছু ধূসর টি-শার্ট আর হুডি ছাড়া কিছু নেই। তিনি ঘুরেফিরে সব সময় একই রঙের টি-শার্ট পরেন। এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তিনি তার ওয়্যারড্রোবের ছবি প্রকাশ করেছিলেন। একই রঙের বেশ কয়েকটি টি-শার্ট সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ হাসির খোরাক হয়েছিল। তার পোশাক-সংক্রান্ত রুচি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুললে এর উপযুক্ত কারণও দেখিয়েছেন তিনি। তার মতে, প্রতিদিন একই রকম পোশাক তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। ফ্যানদের দাবির মুখে ২০১২ সালে বিয়ের সময় তিনি কোট-টাই পরে ছবি তুলেছিলেন। তবে, সাদাসিধে ফ্যাশনের জন্য প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। তারা তার ফ্যাশনকে সে সময় ‘অপরিপক্ব’ বা ‘ছেলেমানুষি’ আচরণ বলে অভিহিত করেছিলেন।

টাই-সুট পরার বিষয়টিকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জই মনে করেন জাকারবার্গ। এর আগে বেশ কয়েকবারই কোট-টাই পরেছিলেন। প্রথমবার ছিল হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এবং দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। ২০১১ সালে তিনি সবচেয়ে বাজে স্টাইলের পোশাক পরেন বলেও আখ্যা পেয়েছিলেন ‘জিকিউ’ ম্যাগাজিনে।

দাতা জাকারবার্গ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দয়ালু ব্যক্তির খেতাব পেয়েছিলেন জাকারবার্গ এবং তার স্ত্রী প্রিসিলা। তাদের ফেইসবুক স্টকের মোট ১৮ মিলিয়ন শেয়ার দান করে তারা সর্বোচ্চ দানশীলের মর্যাদা পান। ১৮ মিলিয়ন শেয়ারের আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৯৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অর্থের পুরোটাই জাকারবার্গ দম্পতি সিলিকন ভ্যালির একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে দান করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক দ্বি-সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘দ্য ক্রোনিকল অব ফিলানট্রফি’ ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০ দানশীলের তালিকায় জাকারবার্গ দম্পতিকে শীর্ষে রাখে।

পশ্চিম আফ্রিকাতে ইবোলা রোগে আক্রান্তদের জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন জাকারবার্গ। এ ছাড়া সম্প্রতি নিজেদের দাতব্য প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করতে গিয়ে সারা পৃথিবী থেকে রোগ-বালাইকে বিদায় করতে ৩০০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাকারবার্গ দম্পতি।

সংকটে

২০১৮ সাল ফেইসবুকের জন্য ছিল একটি বিপর্যয়কর বছর। যার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সম্পদের ওপরও। নিজের মোট সম্পদ থেকে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন তিনি। এই বিপুল অর্থ হারানো তাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকা থেকে এক ধাক্কায় তৃতীয় থেকে অষ্টম স্থানে নিয়ে এসেছে। তবে, আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুততার সঙ্গেই এই ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন জাকারবার্গ।

৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে বছর শুরু করেছিলেন জাকারবার্গ। এ বছরই এই সম্পদ বেড়ে ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু বছরটি শেষ হওয়ার আগে আগে তার সম্পদের পরিমাণ ৫৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি, ফেসবুক অপব্যবহার, শেয়ারহোল্ডার বিদ্রোহ এবং বিতর্কিত কয়েকটি সেবার কারণে এ বছর সংকটের মুখে ফেইসবুক। এই প্রতিষ্ঠানের ১৩ শতাংশ মালিকানা জাকারবার্গের। লোকসানের ক্ষেত্রে বড় বড় রেকর্ড সব জাকারবার্গের দখলেই আছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক দিনে ৩৩০ কোটি ডলার হারিয়েছিলেন জাকারবার্গ।

তুমি তোমার থেকেও বড়

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন জাকারবার্গ। ৩০ মিনিটের ওই বক্তৃতায় তিনি তরুণদের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় উপদেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত তা বলার আমি কেউ নই। আমরা সবাই আমাদের নিজেদের জীবনের লক্ষ্য কী তা জানি। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে শুধু নিজের জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়। আমাদের জেনারেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষেরই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করার সামর্থ্য আছে।

তিনি আরো বলেন, ‘লক্ষ্য হলো এমন একটি অনুভূতি, যার ফলে তুমি নিজেকে তোমার থেকেও অনেক বড় কিছুর অংশ মনে করবে। তোমার লক্ষ্যই তোমাকে প্রকৃত সুখের অনুভূতি দেবে।’

বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি তরুণদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। শুধু উদ্যোগ নেওয়াই নয়, নিজের চিন্তাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করার পরামর্শ দেন। আর সফলতার জন্য একতার ওপরও জোর দেন তিনি।

বাড়ি

অন্যসব ধনীর মতোই বিলাসবহুল এক বাড়ির মালিক জাকারবার্গ। সিলিকন ভ্যালিতে তিনি তার বাড়িটি কেনার আগে পর্যন্ত ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। জানা গেছে, বাড়িটি তার মেনলো পার্ক ক্যাম্পাস অফিস থেকে মাত্র ১০ মিনিট ড্রাইভ দূরত্বে। স্যান মারকিউরি নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি তিনি সাত মিলিয়ন ডলার দিয়ে কনেছেন। বাড়িটিতে আছে পাঁচটি বাথরুম, একটি সানরুম, একটি সুইপিং পোর্চ, সল্টওয়াটার পুল এবং প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা। ১৯০৩ সালে বাড়িটি তৈরি হলেও পরে এটিতে প্রচুর উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি এন্টারটেইনমেন্ট প্যাভিলিয়ন এবং একটি আউটডোর ফায়ারপ্লেস অন্যতম।

এই বাড়িটি ছাড়াও একটি ভাসমান বাড়িও রয়েছে জাকারবার্গ পরিবারের। আসলে এটি একটি ইয়ট। যেখানে বসবাসের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হয়েছে।