আইনশৃঙ্খলা পুরো নিয়ন্ত্রণে : আইজিপি|113991|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আইনশৃঙ্খলা পুরো নিয়ন্ত্রণে : আইজিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা পুরো নিয়ন্ত্রণে : আইজিপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। গতকাল শনিবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো কুচক্রী মহল নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। কোনো অশুভ শক্তি দাঁড়াতে পারবে না। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার বলয় থাকবে।’  তিনি জানান, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এসপি এবং মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে যে ধরনের চাহিদা পেয়েছেন তা পূরণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে সারা দেশে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে মূলত তারাই আটক হচ্ছে। পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে না বলেও দাবি করেন আইজিপি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সারা দেশে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহল ও তল্লাশিচৌকি। নৌবাহিনীর সদস্যরা উপকূল এলাকায় টহল দিচ্ছেন। আকাশপথে টহল দিচ্ছে র‌্যাবের হেলিকপ্টারও। পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাবের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সারা দেশে ২৫ হাজার ৮২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে পুলিশের দুশ্চিন্তা রয়েছে। ওইসব কেন্দ্রে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারাগারে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। প্রস্তত রাখা হয়েছে ৬ হাজার দমকল কর্মীকে।

এদিকে, বিএনপিপ্রধান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। মামলা না থাকার পরও গ্রেপ্তার করছে। পোলিং এজেন্টদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যারা গ্রেপ্তার হননি তাদের কেন্দ্রে যেতে বারণ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের লোকজনও তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ-র‌্যাবসহ গোয়েন্দারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। গতকালও (শুক্রবার) পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। এই নিয়ে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা দিয়েছে পুলিশের মধ্যে। এমনকি পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলা হতে পারে। এ ভাবনা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে নিরাপত্তার ছক। সারা দেশে ২৪ হাজার ১৯৫টি ভোটকেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

ভোটের আগে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। নির্ভয়ে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। নির্বাচন যেন উৎসবমুখর পরিবেশে করতে পারি সে জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ৪০ হাজার ১৮৩টি কেন্দ্রের ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২টি ভোটকক্ষে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন ভোটারের তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার পুলিশ, ৪০ হাজার কোস্টগার্ড, ৪ লাখ ৪৬ হাজার আনসার, ৪১ হাজার গ্রামপুলিশের সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তা ছাড়া ৩৮৯টি উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১৮টি উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন নৌবাহিনী, ১২টি উপজেলায় ৪২ প্লাটুন কোস্টগার্ড এবং ৯৮৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য আছেন। চেকপোস্ট, ফুট পেট্রল, ভেহিকেল পেট্রল ও মোবাইল পেট্রল বাড়ানো হয়েছে। সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটও প্রস্তুত রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে দুশ্চিন্তা পুলিশের : সারা দেশে ৪০ হাজার ২৭৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৮২৭টি ভোটকেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে দুর্গম এলাকার ১ হাজার ৬৩২টি কেন্দ্রই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পুলিশের জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ দশমিক ১৩ ভাগ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১১২টি ভোটকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৬৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪৩টি, খুলনা মহানগর এলাকায় ৩০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১০টি, রাজশাহী মহানগর এলাকার ১৯৬টির মধ্যে ১৬৮টি, বরিশাল মহানগর এলাকার ১৯৭টির মধ্যে ১২৬টি, সিলেট মহানগর এলাকার ২৯৩টির ২০২টি, গাজীপুর মহানগর এলাকার ৪২৬টির মধ্যে ৩৩৮টি, রংপুর মহানগর এলাকার ১৯৮টি মধ্যে ১১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের জেলাগুলোতে কেন্দ্র আছে ৭ হাজার ৩৩৪টি। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৪টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে পাঁচ হাজার ৭৯৮টির মধ্যে ৩ হাজার ৮৮১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৪ হাজার ৮৯৫টির মধ্যে ২ হাজার ৮০৭টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ২ হাজার ১১টির মধ্যে ১ হাজার ৭৫৩টি, রংপুর রেঞ্জে ৪ হাজার ১৪৮টির মধ্যে ২ হাজার ৯০৭টি, খুলনা রেঞ্জে ৪ হাজার ৫২৫টির মধ্যে ২ হাজার ৮৪৯টি, বরিশাল রেঞ্জে ২ হাজার ৩৩১টির মধ্যে ১ হাজার ৬৯৭টি, সিলেট রেঞ্জের ২ হাজার ১৮৩টির মধ্যে ১ হাজার ২৯৩টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহরের বাইরে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অস্ত্রধারী দুজন পুলিশ সদস্য, একজন অস্ত্রধারী আনসার, দুজন গ্রামপুলিশ এবং মেট্রোপলিটন এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন অস্ত্রধারী পুলিশ, একজন অস্ত্রধারী আনসার ও লাঠিসহ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। তাছাড়া রিজার্ভ ফোর্স, কেন্দ্রভিত্তিক মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন।’

পুলিশের ছুটি বাতিল : সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৫ দিন আগে পুলিশের সব ইউনিটের সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দেশের স্বার্থে সবাই তা মেনেও নিয়েছেন। বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যই ১২ ঘণ্টার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করছেন। তার মধ্যে আবার কেউ কেউ কিছুটা আতঙ্কে আছেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ইউনিটপ্রধানরা তাদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাছাড়া জেলার এসপিরা থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করছেন। নির্বাচনের আগে ও পরের এক সপ্তাহ পুলিশের কোনো সদস্য ছুটি পাবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার সবাইকে দায়িত্ব পালনকালে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া সবাইকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে চলাফেরা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।